নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর:
কৃষ্ণনগরের একটি মিশনারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হস্টেলের বাথরুম থেকে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রীর নাম সাঞ্জনা মণ্ডল। তার বাড়ি কৃষ্ণনগরের চাঁদমারি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত খুন।

জানা গিয়েছে, সাঞ্জনার মা কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাইরে কাজ করায় শিশুটি বিদ্যালয়ের হস্টেলেই থাকত। পরিবারের পক্ষ থেকে সৎ বাবা অনিমেষ কুমার সাহা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের হাতে একাধিক ক্ষতের চিহ্ন ছিল। সেই কারণেই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছান কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার শীর্ষ আধিকারিকরা, এমনকি জেলা পুলিশ সুপারও তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি জেলা পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী। তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, “এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি কি খুন, নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পাশাপাশি স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, জেলা পুলিশ সুপারের দফতরের অদূরেই অবস্থিত একটি বিদ্যালয়ের হস্টেলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই রহস্যমৃত্যুর প্রকৃত কারণ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে মৃত ছাত্রীর পরিবার এবং এলাকার বাসিন্দারা।

Be the first to comment