কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র সংসদ ভোটে জয়ী ডিএসএ, ‘অগণতান্ত্রিক’ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দাবি তৃণমূলের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– আরজি কর আন্দোলনের সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি শোনা গিয়েছিল আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের মুখে। মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিবের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকেও সেই দাবি তুলে ধরেছিলেন তাঁরা। এরপর মুখ্যসচিবের থেকে আশ্বাস পেয়েছিলেন মার্চ মাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের। কিন্তু মার্চ মাস কেটে গেলেও রাজ্যের কোনও কলেজে হয়নি ছাত্র সংসদ নির্বাচন। তাই বিগত দু’বছরের মতো এ বছরেও নিজেদের ধারা বজায় রাখল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ।
কলেজের মধ্যেই একটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন করে সোমবার। যেখানে জয়ী হয় মেডিক্যাল কলেজ ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ডিএসএ)। ১৭টি আসনে জয় লাভ করে তারা। এসইউসিআইয়ের ছাত্র সংগঠন ডিএসও জয় লাভ করে একটা আসনে। বাকি দুটো আসনে জয়লাভ করে ২ জন নির্দল। তবে এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই নির্বাচনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ যোগ দেয়নি। এই নির্বাচন সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে হচ্ছে। প্রিন্সিপাল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের গাইডলাইন মানেননি। আমরা ওনার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। আমরা নতুন করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। সেটা যেন কলেজ কাউন্সিল মেনে হয়। আজকের নির্বাচন কোনও কলেজ কাউন্সিল মিটিংয়ে হয়নি। অধিকাংশ কলেজ কাউন্সিলের সদস্যরা এই বিষয়ে জানতেন না।”
যদিও জয়ী দল ডিএসএ-র পক্ষ থেকে সৌম্যদীপ দে বলেন, “এটা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ব্যর্থতা। একটা নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু এই বিষয়ে তারা কিছু জানে না। এই নির্বাচনে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেছে তাদের সকলকেই আমরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। শাসকদল যেভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের গণতন্ত্রের অধিকার হরণের চেষ্টা করছে। সেখানে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে আমরা একজোট হয়ে লড়ছি।”
এই বিষয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ডিএসও-র সদস্য অর্ণব তালুকদার বলেন, “ছাত্রছাত্রীরা এই থ্রেট কালচারের পর আর তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে গ্রহণ করছে না। সেই কারণেই তাদের কোনও প্রার্থী নেই। তাই নানা কারণে তারাই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মার্চ মাসের মধ্যে কলেজে নির্বাচন করানোর কথা বললেও সেটা তিনি করাতে পারেননি। এদিকে কলেজে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন করিয়েছি। ৭৭. ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটে অংশগ্রহণ করেছে।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*