ঘটনাটা ১৯৯৪ সালের। নির্দোষ যুবকদের ধরে ভুয়ো সংঘর্ষে খুন করার অভিযোগ ওঠে খোদ সেনা প্রধানের বিরুদ্ধে। নাম জড়ায় আরও সাত সেনা কর্তার। ভুয়ো সংঘর্ষের অভিযোগ তুলে গুয়াহাটি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা জগদীশ ভুঁইয়া। সেই মামলারই রায়ে অভিযুক্ত সেনা প্রধান-সহ সাত সেনা কর্তাকে যাবজ্জীবনের সাজা শোনাল সেনা আদালত।
ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে তিনসুকিয়ায়। ১৯৯৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। চা বাগানের এক উচ্চপদস্থ কর্মীকে খুনের দায়ে গ্রেফতার করা হয় ন’জন যুবককে। যাঁদের মধ্যে চার জনকে মুক্তি দেয় সেনারা। বাকিদের আলফা জঙ্গি সন্দেহে এনকাউন্টার করা হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, ওই যুবকরা নির্দোষ ছিলেন। দুষ্কৃতীদের সাজা দেওয়ার নামে সেনারা ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তৎকালীন মন্ত্রী জগদীশ ভুঁইয়া। অভিযোগ ওঠে মেজর জেনারেল এ কে লাল, কলোনেল টমাস ম্যাথেউ, কলোনেল আর এস সিবিরেন, ক্যাপ্টেন দিলীপ সিংহ. ক্যাপ্টেন জগদেও সিংহ, অলবিন্দর সিংহ ও শিবেন্দর সিংহের বিরুদ্ধে। মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। তদন্তে জানা যায়, নিহতেরা আসুর সদস্য ছিলেন AASU (All Assam Students Union) । আদালতের নির্দেশে পাঁচ জনের দেহ ঢোল্লা থানায় পেশও করেন সেনা কর্তারা।
২৪ বছরের পুরনো সেই মামলার রায় বেরোয় গত শনিবার। তাতে অভিযুক্ত সেনা প্রধান-সহ সাত জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবনের সাজা শোনায় সেনা আদালত।
এর আগে মণিপুরে বেশ কয়েকবার ভুয়ো সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। মণিপুরের নির্দোষ ছেলেদের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাঙাপাহাড় ক্যান্টনমেন্টের কাছে ভুয়ো সংঘর্ষে সেনাবাহিনী খুন করেছে বলে ২০১৬ সালে অভিযোগ করেন ধরমবীর সিংহ নামে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওই লেফটেন্যান্ট কর্নেল। এ ব্যাপারে আদালতে হলফনামাও পেশ করেছিলেন তিনি।

Be the first to comment