রোজদিন ডেস্ক : নদীয়ার হাঁসখালিতে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত টিএমসি নেতার ছেলে সোহেল গয়ালি-সহ তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডর নির্দেশ দিল রানাঘাট মহকুমা আদালত। সোহেলের বাবা টিএমসি নেতা সমরেন্দ্র গয়ালির পাঁচ বছর কারাদন্ড হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যব্যাপী তোলপাড় ওঠে। নিম্নবিত্ত পরিবারের ওই কিশোরীকে জন্মদিনের নিমন্ত্রণে ডেকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সোহেল গয়ালি ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। আজ আদালত এই নৃশংস ঘটনায় সোহেল (ব্রজ) গয়ালি, রঞ্জিত মল্লিক ও প্রভাকর পোদ্দারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে।
গতকালই রানাঘাট মহকুমা আদালতের বিচারক সৌমেন গুপ্ত নয় জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আজ কড়া নিরাপত্তায় তাদের সাজা ঘোষণা করেন। মূল অভিযুক্ত সোহেল সহ তিনজনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে সাজা দেওয়া হয়।
সোহেলের বাবা টিএমসি নেতা সমরেন্দ্র গয়ালির পাঁচ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। একই সাজা হয়েছে দীপ্ত গয়ালি ও পীযুষ ভক্তের। অংশুমান বাগচিকে বিচারক তিন বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন।
দুই অভিযুক্ত আকাশ বারুই ও সুরজিৎ রায় এর বয়স কম থাকায় তাদের নিজস্ব বেল বন্ডে এক বছরের জন্য ছাড়া হয়েছে। এই সময়কালে তাদের আচার আচরণ ভাল থাকলে তারা মুক্তি পাবে। না হলে এই রায় বাতিল হতে পারে৷
রায় ঘোষণার পর অভিযুক্তদের আইনজীবী রাজা ব্যানার্জি বলেন, সিবিআই এই মামলার তদন্ত ঠিক মত করেনি। তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, গণধর্ষণের পর রক্তাক্ত ওই কিশোরীকে বাড়িতে রেখে যায় অভিযুক্তরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে সেদিন রাতেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেখানেই শেষ নয়। খবর পেয়ে কাক ভোরে কিশোরীর দেহ তারাই নিয়ে গিয়ে জোর করে পুড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। ভয়ংকর এই ঘটনা সামনে আসে কয়েকদিন পর। হাড় হিম করা এই ঘটনায় রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদ, নিন্দার ঝড় ওঠে। সিবিআই এই তদন্তের ভার পায়।

Be the first to comment