রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর: শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানিপাড়া লেনের শিশু উদ্যান এখন একরকম ফেলে রাখা ভাঙাচোরা জায়গা ছাড়া আর কিছুই নয়। কয়েক বছর আগে এলাকার ছোটদের কথা ভেবেই যে উদ্যান বানানো হয়েছিল, সেটাই আজ অবহেলার চাপে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। একসময় এই জায়গায় বিকেলের দিকে শিশুরা খেলত, বড়োরা বসে আড্ডা দিতেন। এখন সেই কোলাহল থেমে গেছে বহুদিন।
ভেতরে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়ে মরচে ধরা দোলনা, ভাঙা স্লাইড, খসে পড়া বেঞ্চ। দেওয়ালের রং উঠে গিয়েছে অনেকটা। চারপাশে অপরিসীম আগাছা, বড় ঘাসে ভর্তি জঙ্গল। স্থানীয়দের কথায়, এখানে সাপ-পোকামাকড়ের সংখ্যা এখন মানুষের চেয়ে বেশি। আগে নানা ধরনের গাছপালায় ভরপুর ছিল উদ্যানটি, এখন তা কেবলই ঝোপঝাড়ের স্তূপ। বসার জায়গার সিমেন্টের চাঙর ভেঙে পড়ে আছে জায়গায় জায়গায়।
কৃষ্ণনগর পৌরসভার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখছি। খোঁজ নিয়ে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ মজুমদারও ক্ষোভ লুকোননি। তাঁর কথায়, “এটাকে এখন উদ্যান বলা যায় না। সবকিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আলো নেই, খেলনার জিনিসপত্র মরচে ধরে ভেঙে যাচ্ছে। যদি পুরসভা আবার নতুন করে সাজিয়ে দেয়, বাচ্চাদের জন্য খুবই ভালো হবে। বাইরে খেলার জায়গা তো এমনিতেও কমে যাচ্ছে।”
কেরানিপাড়া লেনের বাসিন্দাদের পরিষ্কার দাবি—পুরসভা দ্রুত উদ্যানটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিক। নতুন দোলনা, স্লাইড, বসার জায়গা, সঙ্গে যথেষ্ট আলো—সব মিলিয়ে উদ্যানটি যদি আবার সাজানো যায়, তাহলে এই ছোট্ট জায়গাটি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। শিশুদের হাসি-খেলা ফিরে আসবে আগের মতো।

Be the first to comment