ভোটারদের বৈধ নথি মানছে না কমিশন, বাড়ছে হেনস্তা, জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : মাঝে মাত্র দু’দিনের বিরতি। ফের নির্বাচন কমিশনকে পত্রাঘাত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে শুনানি-হেনস্থা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, এসআইআরে শুনানি পর্বে ভোটারদের হয়রানির শেষ নেই। তাঁদের দেওয়া নথিপত্র নির্বাচন কমিশন গ্রাহ্য করছে না, প্রাপ্তিস্বীকারও করছে না। এই অভিযোগ তুলে দিল্লির কমিশনকে পঞ্চম চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবারের চিঠিতে তাঁর আরও অভিযোগ, এই পদ্ধতি একেবারেই ভিত্তিহীন, বেঠিক। এভাবে কাজ চললে যে কোনও সময়ে যে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এর আগে গত শনিবার শুনানির নোটিস সংক্রান্ত বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন, ‘গুরুতর প্রক্রিয়াগত গলদ’ ও ‘অযৌক্তিক হয়রানি’র অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারকেনচিঠি দিলেন তিনি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নথি জমা দেওয়ার পরেও তার কোনও প্রাপ্তিস্বীকার করা হচ্ছে না। পরে যাচাই বা শুনানির সময় সেই নথিগুলিকে ‘নট ফাউন্ড’ বলে চিহ্নিত করে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

১২ জানুয়ারির ওই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানির সময় ভোটাররা যোগ্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিচ্ছেন। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে সেই নথি জমা নেওয়ার কোনও রসিদ বা অ্যাকনলেজমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীকালে যাচাই পর্বে সেই নথি রেকর্ডে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই পদ্ধতি ‘ফান্ডামেন্টালি ফ্লড অ্যান্ড আনটেনেবল’। নথি জমার প্রমাণ না থাকায় নাগরিকদের পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ রেকর্ড, রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটির উপর নির্ভরশীল করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়া যান্ত্রিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর। যুক্তিবোধ থেকে সংবেদনশীলতার প্রয়োগ কোথাও নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষ ‘সিভিয়ার হ্যারাসমেন্ট’-এর শিকার হচ্ছেন। এর জেরে ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এসআইআরের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ। কিন্তু এই পদ্ধতিতে বৈধ ও প্রকৃত ভোটাররা বাদ পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।

চিঠির দ্বিতীয় অংশে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার প্রসঙ্গও টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব ভোটার ইতিমধ্যেই ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নিজেদের নাম ম্যাপিং করে সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবার নতুন করে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এতে অকারণে বিভ্রান্তি, ক্ষোভ এবং নিচুতলার কর্মীদের বিরক্তি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ।করেন তিনি। শেষে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের আর্জি জানান। একই সঙ্গে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জোর দিতে বলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*