রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ‘বাংলাভাষীদের উপর হেনস্থা’র প্রতিবাদে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকার সার্কুলার জারি করে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো ও জেলে ভরে রাখার ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এনআরসি-র নোটিশ ও রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কটাক্ষ, বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস চলছে। তাঁর দাবি, যে জাতীয় সঙ্গীত থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম যে বাংলায় হয়েছে, সেখানকার ভাষার উপর আঘাত এলে তা মানা হবে না, হবে ঘেরাও কর্মসূচি হবে। তৃণমূল নেত্রীর হুঁশিয়ারি, প্রয়োজনে লড়াই যাবে দিল্লিতে।
বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের প্রতিবাদ জানাতে আগামী ২৭ জুলাই নানুর দিবস থেকে প্রতি শনি ও রবিবার মিটিং-মিছিল করার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। দলের কর্মী-সমর্থকদের এই নিয়ে প্রতিবাদে নামার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “জীবন দিতে রাজি আছি। ভাষার উপর অত্যাচার মানব না। আমরা সব ভাষাকে ভালোবাসি।”
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের প্রতিবাদ দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষার উপর কেন সন্ত্রাস চলছে? বাংলা স্বাধীনতার জন্য লড়েছে। নবজাগরণ হয়েছে এই বাংলা থেকেই। বাংলার মাটি দুর্বৃত্তদের হতে দেব না। বাংলার মানুষকে যদি বাংলা বলার জন্য বাইরে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে এই লড়াই দিল্লিতে হবে। আমি ছাড়ার লোক নেই। এই লড়াই আমাদের জিততে হবে।”
রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিজেপির দেওয়া তথ্যকে খারিজ করে দিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা ভাষায় নাকি কথা বলা যাবে না। কে মাছ খাবে, কে মাংস খাবে, কে ডিম খাবে সবকিছু নাকি ওরা ঠিক করে দেবে। বিজেপির একজন নেতা বলছেন এখানে নাকি ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা রয়েছে। মোট কত রোহিঙ্গা আছে? রাষ্ট্রসংঘ বলেছিল, ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা রয়েছে। এখন হয়তো তা একটু বেড়েছে। আপনি এত জনকে বাংলাতে পেলেন কোথা থেকে? এত রোহিঙ্গাই দেশে নেই। সারা পৃথিবীতে নেই। তুমি এসব বলার কে? কোনও জ্ঞান নেই৷”
মমতা বলেন, “কোনও ভাষার উপর আক্রমণ মানব না। ২৭ জুলাই থেকে শুরু হবে ভাষা আন্দোলন ৷ এই আন্দোলন চলবে আগামী নির্বাচনের রেজাল্ট বেরনো পর্যন্ত ৷” তাঁর কথায়, “২০২৬ সালের লড়াইয়ের পর আমাদের লড়াই দিল্লিতে। 3৩দিল্লি দখলের লড়াই । বাংলাতে ভোটার লিস্ট থেকে একজনের নাম বাদ গেলেই বৃহত্তর আন্দোলন হবে । নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করা হবে ।”

Be the first to comment