রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপের হাত ধরে বর্ষা প্রবেশ করল দক্ষিণবঙ্গে। সময়ের থেকে পাঁচদিন পরে বর্ষা ঢুকল। পূর্বাভাস অনুযায়ী ১০ থেকে ১২ জুন বর্ষা আসার কথা ছিল।
গত কয়েকদিন আগেও উত্তরবঙ্গে থমকে ছিল বর্ষা। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হতেই ফের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সচল হতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরে ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা বর্ষা প্রবেশ করে। এর ফলে পুরো রাজ্যেই আগামী কয়েকদিনে বর্ষা শুরু হয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া অফিসের।
মঙ্গলবার, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণ পশ্চিম বাংলাদেশ এবং তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় বঙ্গের উপর একটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে যে ঘূর্ণাবর্তটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে ঘনীভূত হয়েছিল তা নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এই নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সরে যাবে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার সারাদিনই বৃষ্টিতে ভিজবে বঙ্গ।
হুগলি, হাওড়া, দুই বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, বাঁকুড়া ও বীরভুমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা শহরে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ২৩. ৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর নিচু এলাকায় জল জমতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে। ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রিতে নেমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে আষাঢ়ের শুরুতেই বৃষ্টিভেজা বাংলা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রাজপথ থেকে অলিগলি, টালির চাল থেকে বহুতলের ছাদ ভিজেছে। তবে মুষলধারে বৃষ্টি না হওয়ায় পথঘাটে সেভাবে জল জমতে দেখা যায়নি।
এদিন সকালে কলকাতার মানিকতলা এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১২ মিলিমিটার। দত্ত বাগান এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৫ মিলিমিটার। বীরপাড়া ২ মিলিমিটার। মার্কাস স্কোয়ার এলাকায় ৯ মিলিমিটার, ধাপা এলাকায় ১০ মিলিমিটার, তপসিয়াতে ১৩ মিলিমিটার, উলটোডাঙা এলাকায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণের সংযুক্ত কামদহরি এলাকায় অপেক্ষাকৃত একটু বেশি বৃষ্টি হয়েছে, পরিমাণ ২৭ মিলিমিটার। বালিগঞ্জে ১৬ মিলিমিটার, মোমিনপুরে ১৬ মিলিমিটার, চেতলা লকগেট ১০ মিলিমিটার, যোধপুর পার্ক এলাকায় বৃষ্টি হয়ে হয়েছে ২২ মিলিমিটার। কালীঘাটে হয়েছে ১৩ মিলিমিটার।
পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের দিকে চোখ রাখলে দেখা যাবে, মালদায় সকাল থেকে তেমন বৃষ্টি হয়নি। একই পরিস্থিতি শিলিগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে। সেখানেও সকাল থেকে বৃষ্টি নেই। কিন্তু আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী বেশ কয়েকদিন উত্তরবঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা জেলায় ১৮ জুন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তোর্ষা ও জলঢাকার সাব বেসিনে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কোচবিহারের সিংগি মারিতে ৭১. ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডুয়ার্সের কারবালাতে ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ময়নাগুড়িতে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

Be the first to comment