বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, তোপ বিরোধী নেতাকেও

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
রাজ্যে হিংসা, অনুপ্রবেশ ইত্যাদি ইসুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপালের ভাষণের ওপর বিতর্কের জবাবে আজ বিধানসভায় প্রাক্তন সরকারের আমলে একের পর এক হিংসার ঘটনা, নারী নির্যাতন, দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তোপ দাগেন। বলেন, সব হিসাব হবে। এক জন চোরকেও ছাড়া হবে না৷ সবার বিচার হবে।

তিনি বিরোধী নেতা থাকাকালীন কিভাবে তাঁকে দিনের পর দিন সভার বাইরে রাখা হত, তা বলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী র উদ্দেশ্যে বলেন, অন রেকর্ড যা যা করে গেছেন, সব কিছুর হিসাব হবে, বিচারও হবে। তিনি বিরোধী দের মুখে লুকো প্লাস্ট লাগাবেন না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সওকত মোল্লা, শাজাহান, সোনা পাপ্পুদের কেউ বাঁচাতে পারবে না বলে হুঙ্কার দেন।
জানান, পাঁচ বছর আগে ভোটের পর রাজ্যে ৫৭ জন খুন হয়েছিলেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, কি করে উনি ভোটের আগে বলেছিলেন, তাঁরা আছেন বলে সবাই ভাল আছেন। না হলে একটা সম্প্রদায় আছে, যারা এক হলে শেষ করে দিতে বেশি সময় লাগবে না!! কি করে একজন সাংবিধানিক পদে থেকে এমন কথা বলেন, তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিভাবে দুর্নীতি করে রাজস্ব কম আসতো তা বলেন। জানান বীরভূমে এত বালি, পাথর ইত্যাদি দুর্নীতি হোত, রাজকোষে টাকাই জমা পড়তো না। তাঁদের আমলে মাত্র এক মাসে যা বহু গুণ বেড়েছে।

তাঁর এই সব বক্তব্যের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিধায়করা তুমুল হৈ চৈ করেন। বিকেল ৫ টা ২২ মিনিটে ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল বিধায়করা সভাকক্ষ ছেড়ে চলে যান। মমতাপন্থী বিধায়করা সভাকক্ষে থাকায় তা নিয়ে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কালিঘাট তৃণমূল সভায় রয়ে গেলেন!
তীব্র কন্ঠে বলেন, বিকাশ হবে, হিসাবও হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষে বিঁধে বলেন, উনি আগেও হেরেছেন, এবারও হেরেছেন। মানুষের রায় মেনে নিন।

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল নিয়ে বলেন, ওখানে ১৩ জনেরই সই মেলেনি। তিনজন স্বীকার করেছেন, সই তাঁদের নয়।
এই তৃণমূল আর ক্ষমতায় আসবে না বলে তীব্র কন্ঠে মন্তব্য করেন। বলেন, এই চ্যাপ্টার বন্ধ হয়ে গেছে। চৌত্রিশ বছরের বাম শাসন শেষের সময়ও তিনি রাস্তায় ছিলেন, এবারও তিনি রাস্তায় ছিলেন।
অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, এখানে ওদের রাখা হবে না। সব ফেরত পাঠানো হবে। কেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফকে জমি দিতেন না প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা সরকারে এসে বিএসএফ-কে জমি দিয়েছেন। সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজ হচ্ছে বলে জানান।

নাম না করে বিধাননগরের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বান্ধবীর বাড়ি কিলো কিলো সোনা পাওয়া গেছে বলেন।
বিরোধী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জিকে ঠুকে বলেন, উনি সিপিএমের সুরে কথা বলছেন!!
সরকারের ভাল কাজে সহযোগিতা করতে বিরোধীদের আহবান জানান।
তাঁর বিরুদ্ধে কিভাবে প্রাক্তন সরকারের আমলে মামলা হয়েছে, সভা করতে দেওয়া হয় নি, বারবার তাঁকে আদালতে গিয়ে অনুমতি আনতে হয়েছে বলেন।
বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনের নামে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৩২৪ কোটি টাকা শুধু ফিকি-কেই দিয়েছেন। এ তো হিম শৈলের চূড়ামাত্র বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তমান্নার বিচার হবে, গত বছর আজকের দিনেই কালিগঞ্জে ছোট্ট তমান্না নৃশংসভাবে খুন হয়েছিল। রামপুরহাটের ছয় বছর বয়েসের আদিবাসী কন্যা, রাজগঞ্জের নির্যাতিতা, কসবা আইন কলেজের নির্যাতিতা সবার বিচার হবে বলে হুঙ্কার দেন। বিরোধী তৃণমূল বিধায়কদের নিশানা করে উচ্চ কন্ঠে বলেন, এই নিয়ে রাজ্য সরকার কমিশন করেছে। একটি নারী নির্যাতন, আরেকটি দুর্নীতি নিয়ে। দ্বিতীয়টির নেতৃত্বে আছেন আইপিএস জয়রামন!
এই সব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, তাঁরাও চান সব নারী নির্যাতনের তদন্ত হোক। অপরাধীরা শাস্তি পাক।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*