উত্তাল বিধানসভা! মার্শাল দিয়ে বিজেপির দুই বিধায়ককে বের করে দিলেন অধ্যক্ষ, সাসপেন্ড করা হল আরেক বিজেপি বিধায়ককে

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বিধানসভায় ব্যয় বরাদ্ধ নিয়ে আলোচনার সময় চরম উত্তেজনা। মার্শাল দিয়ে দুই বিধায়ক শংকর ঘোষ এবং মনোজ ওরাওঁকে বিধানসভা থেকে বের করে দিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সাসপেন্ড করা হয় বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনকে। এর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে দ্বিতীয় পর্যায়ের বাজেট অধিবেশনে বিধানসভা চত্বর।

সোমবার দ্বিতীয় পর্যায়ের বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা। মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ বক্তব্য রাখার সময় মাইক বন্ধ করে দিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই বিধানসভার মধ্যেই স্লোগান দিতে শুরু করে বিরোধীরা। এই অবস্থার পরিস্থিতি দেখে প্রথমে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী সদস্যদের সাবধান করেন। তারপরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না-আসায় দুই বিজেপি বিধায়ককে মার্শাল দিয়ে বের করে দেন অধ্যক্ষ।
এরপর বিজেপি বিধায়করা বিধানসভা থেকে ওয়াক-আউট করেন। বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় ডেস্কে থাকা কাগজ ছিঁড়ে ও ছুড়ে দেন বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন। এই কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ের বাজেট অধিবেশন থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করেন অধ্যক্ষ।
তারপরই, বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার বাইরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেখানে বিজেপি বিধায়ক হিরণ বলেন, “২০১৫ সালে ‘রাইট টু পাবলিক সার্ভিস’ বলে একটি আইন পাস করা হয়েছিল বিধানসভায়। এই দফতরের মাধ্যমে প্রত্যেক বছরেই কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। সেই কমিশনে তালা ঝুলছে। সেখানে কোনও কাজ হয় না। গত ১০ বছরে একটি অভিযোগও জমা পড়েনি। সরাসরি বিধানসভার ভিতরে এই নিয়ে প্রশ্ন করার জন্যই আমার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০২৩ সালে আমার মাইক বন্ধ করে দিয়েছিলেন ডেপুটি স্পিকার। এবার দ্বিতীয়বার আমার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হল।” তিনি আরও বলেন, “অধ্যক্ষ বলছিলেন তোমার এইসব বলে লাভ নেই। আমি সরাসরি তাঁকে বলি আপনি এসব কথা আমাকে বলতে পারেন না। আমার কীসে লাভ হবে বা হবে না সেটার ডিরেকশন আপনি দিতে পারেন না। আমি যেমন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত আপনিও জনগণের দ্বারাই নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধানের শপথ নিয়েই আপনি অধ্যক্ষ হয়েছেন আর আমি একজন বিধায়ক হয়েছি। আমার অধিকার রয়েছে কথা বলার। আপনি এটা বলতে পারেন না। এরপরই অধ্যক্ষ আমার মাইক বন্ধ করে দেন।”
যদিও বিধানসভার অন্দরে অধ্যক্ষ নিজে কী কারণে হিরণের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, “বিধানসভার মধ্যে মাননীয় বিধায়ক যে ধরনের বক্তব্য রাখছিলেন, তা বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এবং যা খুশি তাই বলছিলেন। সেই কারণেই তাঁর মাইক ডিসকানেক্ট করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে তাঁর বলা বিতর্কিত বক্তব্যগুলি রেকর্ডে যাবে না।” অধ্যক্ষ আরও জানান, রুম বুক ৩৫৫ নম্বর ধারা অনুসারে অধ্যক্ষের সম্পর্কে বলা তাঁর বক্তব্য অপমানজনক। সে কারণেই সেগুলিকে রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও বিজেপি বিধায়কদের হাউস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন অধ্যক্ষ। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেকেরই একটা সীমার মধ্যে থাকা উচিত। এমন কিছু বলা বা করা উচিত নয়, যা বিধায়ক হিসাবে অসম্মানজনক।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*