রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার এক সপ্তাহ পার। ভূস্বর্গে বেড়াতে যাওয়া নিরীহ মানুষজনের উপর জঙ্গিদের বুলেটবৃষ্টির ক্ষত এখনও টাটকা দেশবাসীর মনের গভীরে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসদমনে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়া জরুরি এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর সময় বলে মনে করছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাই পহেলগাঁও ইস্যুতে সংসদের উভয়পকক্ষেই বিশেষ অধিবেশন ডাকার আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি লিখলেন তিনি। চিঠিতে তাঁর আবেদন, লোকসভা ও রাজ্যসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।

গত ২২ এপ্রিল, ২৮টি প্রাণের বিনিময়ে পহেলগাঁওকে রক্তাক্ত করেছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। রাজনীতি ভুলে দেশের স্বার্থে তীব্র নিন্দায় মুখর হয়েছেন সব দলের নেতানেত্রী। সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। এমনকী এই পরিস্থিতিতে দলের কোনও কোনও নেতা বিরূপ মন্তব্য করলেও কংগ্রেসের কড়া অবস্থান, এই ইস্যুতে দলের ঘোষিত অবস্থানই মেনে চলতে হবে। ফলে সন্ত্রাসদমনে যে কেন্দ্রের প্রতি পদক্ষেপের পাশে থাকবে কংগ্রেস, তা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বারবার বোঝানো হয়েছে।
আর এই অবস্থান থেকেই কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা চান, জাতীয় নিরাপত্তায় এত বড় ধাক্কার ঘটনায় লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিশেষ অধিবেশন বসুক। আলোচনা হোক শাসক-বিরোধী সকলে মিলে। একজোট হয়ে নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি শত্রুদেশকেও বুঝিয়ে দেওয়া হোক সন্ত্রাস চালিয়ে ভারতের ঐক্য ভাঙা যাবে না। এসব জানিয়েই তিনি মঙ্গলবার চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে।
উল্লেখ্য, এই একই আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন কংগ্রেস সভাপতি এবং বর্ষীয়ান রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গেও।

প্রসঙ্গত, সোমবার পহেলগাঁও ইস্যুতেই জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সেখানে মর্মস্পর্শী বক্তব্য রাখেন। পর্যটকদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে না পারার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন আবদুল্লা।

Be the first to comment