রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- দক্ষিণ কাশ্মীরের ২৬ জন পর্যটকের ওপর ভয়ানক হত্যালীলায় আজ গোটা দেশ তথা ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক দেশগুলিও সরব হয়ে উঠেছে। সকলেই সন্ত্রাসবাদী দেশ পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে দিয়েছে পূর্বেই। ভারত সরকার নানাবিধ চুক্তি ও বাধ্যবাধকতা দিয়ে শত্রুদেশ পাকিস্তানকে কার্যত আসন্ন যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছে। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত,পাকিস্তানিদের দেশ থেকে বিতাড়িত,ভারত পাক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, তার ওপরে এখন বন্যা পরিস্থিতিতে জর্জরিত সন্ত্রাস আশ্রয়ী দেশ পাকিস্তান।
প্রসঙ্গত কাশ্মীরে ২২ এপ্রিল এই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা ( NIA )এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায়িত্বভার আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গিরা বৈসরন ভ্যালিতে হামলা করার আগে একাধিকবার ওই জায়গা রৈইকি করেছিল। তারপর হামলার দিন একসঙ্গে তিনটি স্পটে গুলি চালিয়েছিল। গোয়েন্দাদের তদন্তে সম্প্রতি আরও একটি তথ্য উঠে এসেছে। সেটাতে বোঝা যায়, পর্যটকদের আদতে ফাঁদে ফেলেছিল জঙ্গিরা। গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, মোট ৪ জন জঙ্গি পহেলগামের বৈসরন ভ্যালিতে গুলি চালিয়েছিল। হামলার আগে ২ জন ভ্যালির এন্ট্রি গেট দিয়ে ঢোকে। একজন এক্সিট গেটে দাঁড়িয়েছিল যাতে কেউ সেখান থেকে বেরোতে না পারে। আর অপর এক জঙ্গি জঙ্গলের ভিতরে লুকিয়ে ছিল। গুলি চলা শুরু হওয়ার পর সে বেরোয়। মনে করা হচ্ছে, সাগরেদদের ব্যাকআপ দেওয়ার জন্য জঙ্গলে বসেছিল ওই জঙ্গি। কেউ যাতে জঙ্গলে গিয়েও লোকাতে না পারে, সেই চেষ্টাই করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পর্যটকদের ফাঁদে ফেলে ছক কষে খুন করেছে সন্ত্রাসবাদীরা।
মৃত পর্যটকদের পরিবারের তরফে আগেই দাবি করা হয়েছিল, জঙ্গিরা পুলিশ এবং সেনার পোশাকে ছিল। তাই তাদের দেখে কেউ ভাবতেও পারেননি ওরা সন্ত্রাসবাদী হবে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ঘাতক জঙ্গিদের ২ জন সেনার পোশাক পরে এন্ট্রি গেটে ছিল। আর যে মূলত গুলি চালাতে শুরু করেছিল, সে ছিল পুলিশের উর্দিতে।
ঘটনার দিন দুপুর ১.৫০-এ প্রথম গুলি চলেছিল। তারপর টানা ১০ মিনিট এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ২৫ পর্যটক এবং এক কাশ্মীরিকে হত্যা করে জঙ্গিরা।

Be the first to comment