এই দুর্গাপুজোতেও (Durga Puja) ফিরলেন না অনেকেই

Spread the love

রমিত সরকার, নদিয়া :

দুর্গাপুজো (Durga Puja) বাঙালির ঘরে ফেরার উৎসব। শিউলির গন্ধ, ঢাকের বাজনা আর আলপনার রঙে ভরে ওঠে শহর থেকে গ্রাম। কিন্তু আনন্দের আবহের মাঝেই লুকিয়ে থাকে কিছু নিঃশব্দ শূন্যতা। এমন বহু ঘর আছে, যেখানে প্রতীক্ষার আলো জ্বলে থাকলেও ফিরে আসেন না প্রিয়জনেরা।

প্রথমেই কথা বলতে হয় পরিযায়ী শ্রমিকদের। পুজোর আগে রেলস্টেশনে ভিড় বাড়লেও, সবার বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। কেউ ভিনরাজ্যে বড় নির্মাণশালায়, কেউ কারখানায় আটকে থাকেন জীবিকার টানে। চাকরি হারানোর ভয়ে, একমুঠো অন্নের দায়ে তাঁরা প্রিয়জনের কাছে ফিরতে পারেন না। এদিকে গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষায় থাকা পরিবার ফোনের পর্দায় মুখ দেখেই উৎসব কাটান। এক মা আক্ষেপ করে বলেন, “ছেলেটা এলে অষ্টমীর সন্ধ্যায় প্রসাদ দিতাম হাতে, এ বছরও কেবল ফোনেই দেখি।”

আরও এক শূন্যতা দেখা যায় সেনা পরিবারগুলিতে। সীমান্তে দায়িত্বে থাকা সৈনিকদের অনুপস্থিতিতে ঘর ফাঁকা হয়ে থাকে উৎসবের দিনে। বাবা, ভাই বা স্বামীর অনুপস্থিতি পূজোর আনন্দকে করে তোলে ম্লান। চিঠি, পোস্টকার্ড কিংবা ভিডিও কলই হয়ে ওঠে সান্ত্বনার আশ্রয়। গ্রামের এক বৃদ্ধা মা বলেন, “আমার পুজো তো ছেলেটার ফেরার দিনেই হবে।”

এসব বাড়িতে হয়তো খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন হয়, আত্মীয়-প্রতিবেশীরা আসেনও, কিন্তু চোখের কোণে থেকে যায় অদৃশ্য শূন্যতা। কোলাহলের মাঝেও শোনা যায় দীর্ঘশ্বাস।

দুর্গাপুজো শক্তি ও আশ্রয়ের প্রতীক হলেও, পরিযায়ী শ্রমিক ও সেনা পরিবারের কাছে এর রূপ একেবারেই আলাদা। তাঁদের একটাই প্রার্থনা—আগামী বছর প্রিয়জন যেন অন্তত একবারের জন্যও ঘরে ফেরেন।

প্যান্ডেলের আলো, ঢাকের তাল আর মণ্ডপে ভিড়ের উল্লাসে এই যন্ত্রণার সুর চাপা পড়ে যায়। অথচ এটাই এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা—দুর্গাপুজো মানে কেবল আনন্দ নয়, মানে অপেক্ষা, প্রার্থনা আর ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*