রোজদিন ডেস্ক : দীর্ঘ দুই দশক পর বিহারে এবার মাত্র দু-দফায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। আগামী ৬ ও ১১ নভেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ নভেম্বর ফল প্রকাশ। আজ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন।
বিহারে গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই দফাওয়ারি ভোটের দিন কমিয়ে আনা হচ্ছিল। গতকাল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে শাসক দল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবার দু-দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য আর্জি জানায় বলে প্রকাশ। কবে এই দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে কাল তার আভাস ছিল না। আজ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC) তা ঘোষণা করেন। ২৪৩ টি আসনের বিহার বিধানসভায় ৬ নভেম্বর প্রথম দফায় ১২১টি আসনে ও ১১ নভেম্বর বাকি ১২২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। ১৪ নভেম্বর গণনা। ওইদিনই ফল প্রকাশ হবে।
২০২০ সালের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ আর জে ডি ও বিজেপি যথাক্রমে ৭৫ ও ৭৪ টি আসন পায়। নীতিশ কুমারের দল জে ডি ইউ পায় ৪৩টি, কংগ্রেস ১৯টি আসন পেয়েছিল। চমকপ্রদ ফল করেছিল সিপিআইএমএল, তারা ১২ টি আসনে জয়ী হয়। প্রথমে জেডিইউ নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে আরজেডি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করলেও পরে বিজেপির সঙ্গে যায়।
এবারের নির্বাচনে উভয়পক্ষই জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত। এনডিএ-কে জেতানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই ওই রাজ্য সফরে গিয়ে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করে এসেছেন। নীতিশ কুমার এবার এনডিএ-র সঙ্গেই থাকবেন বলে আগে জানিয়েছেন।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমার আরও জানিয়েছেন, বিহার নির্বাচন ছাড়া আগামী ১১ নভেম্বর ৭টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৮টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হবে। তা হল, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মিজোরাম, পঞ্জাব, তেলেঙ্গানা ও রাজস্থান। এই সব কেন্দ্রেও ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর।
SIR-এর পর বিহারে গত সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সব ভোটারের তালিকায় নাম আছে কিনা দেখতে অনুরোধ করেছেন। যদি কারও নাম না থাকে, বিএলও-দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ১০ দিন আগেও ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করা যাবে।
বিহার নির্বাচনকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলে জানান সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সাড়ে আট লক্ষ আধিকারিক নিযুক্ত থাকবেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিহার দেশকে পথ দেখিয়েছে বলেও জানান জ্ঞানেশ কুমার। ইতিমধ্যে নতুন ঠিকানাধারীদের নতুন ভোটার কার্ডও দেওয়া হয়েছে। এখন ১৫ দিনের মধ্যেই নতুন ভোটার কার্ড দিচ্ছে কমিশন।
বিহারের আসন্ন নির্বাচনে ১০০ বছরের বেশি বয়সি ১৪ হাজার ভোটার আছেন। তাঁরা যাতে ভোট দিতে পারেন তার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৮৫ বছরের বেশি বয়স্করা চাইলে বাড়িতে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হবে।
সমাজমাধ্যমে কেউ যাতে ভূয়ো খবর বা গুজব না ছড়ায় সেদিকে কঠোর নজর রাখছে কমিশন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পুলিশি টহলদারি থাকবে। সিইসি-র আরও দাবি, এবারের নির্বাচন সহজ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হবে। এবার সামগ্রিকভাবে ভোট প্রক্রিয়ায় ১৭টি নতুন পরিবর্তন আনা হচ্ছে, বিহার থেকেই তা শুরু হবে।

Be the first to comment