রোজদিন ডেস্ক : বিহার বিধান সভা নির্বাচনে এবার BJP ও JDU সমসংখ্যক আসনে লড়বে। ২০৫টি আসন তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে ভাগ করে নেবে। বাকি ৩৮টি আসন NDA-এর বাকি শরিকদের দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
গতকাল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করার আগে থেকেই ওখানে আসন বন্টন নিয়ে রাজনৈতিক দল গুলি তৎপর ছিল, এখান তা তুঙ্গে উঠেছে। সূত্রের খবর, চিরাগ পাশোয়ান নেতৃত্বাধীন এলজেপি-কে বিজেপি ২৫টি, জিতনরাম মাঝির এইচএএমকে ৭টি ও উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএমকে ৬টি আসন দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে চিরাগ পাশওয়ান আরও আসন চাইতে পারে। তখন বাকি শরিকদের আসন কমানো হতে পারে। এতেও যদি শরিকরা খুশি না হয়, তাদের রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদের আসন দেওয়ার প্রস্তাব দেবে গেরুয়া শিবির।
দিল্লি ভিত্তিক আম আদমি পার্টি এবার প্রথম বিহারের ২৪৩টি আসনেই প্রার্থী দিতে পারে বলে জানা গেছে।
আসন রফা নিয়ে বিরোধী শিবিরও তৎপর। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, আরজেডি, বাম দলগুলি একজোট হয়ে মহাগাঠবন্ধন করে লড়েছিল। ফলও ভাল হয়েছিল। বিশেষত সিপিআইএমএল ১৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১২টি আসনে জয়ী হয়ে চমকপ্রদ ফল করে। এবার তারা ৪০টি আসনে লড়তে চায় বলে খবর। গতবার কংগ্রেস ৭০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ১৯টি আসন পায়।এবার তাদের সঙ্গে আরজেডি-র টানাপোড়েন এখনও চলছে বলে প্রকাশ। কংগ্রেস ও আরজেডি লিবারেশন-কে ৪০ টি আসন দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ৩২/৩৩টি আসন চাইতে পারে। সিপিআই ও সিপিএম গতবার ৬টি করে আসনে লড়েছিল। উভয় দলই ২টি করে আসনে জয়ী হয়। তারা এবার বেশি আসনের দাবি নাও জানাতে পারে। তবে জেএমএম-সহ ইন্ডিয়া জোটের আরও কয়েকটি দল কি করবে এখনও পরিস্কার নয়।
সাবেক ভোট-কুশলী প্রশান্ত কিশোরের দলও এবার বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তারা কোনও জোটে যাবে বলে এখনও জানা যায় নি। তবে চিরাগ পাশওয়ানের পক্ষে তাদের সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
বিহারে প্রান্তিক পিছিয়ে পড়া জনতার ৩৩% ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে এনডিএ-র দিকে থাকলেও এখন বিরোধীদের দিকে তারা ঝুঁকেছে।
আগামী ১০ অক্টোবর নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির সঙ্গে মনোনয়নপত্র পেশও শুরু হবে। মাঝে আর মাত্র কয়েক দিন হাতে আছে। এর মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে বিহারের রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা এখন তুঙ্গে।

Be the first to comment