রোজদিন ডেস্ক : আগামী বছর বাংলার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই আজ লোকদভায় বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মন্তব্য করেন। বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, আজ সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার দুটি উদ্দেশ্য, প্রথমত, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন আসছে, এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নিজের ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।
দ্বিতীয়ত, যাঁরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, এই সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন সব অভিযোগ আনছেন।এই সব করে মোদি সরকার দেশের সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনগুলির থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে চান।
বন্দেমাতরমের দেড়শো বছর পূর্তি নিয়ে আজ আলোচনাকালে সংসদের মেজাজ বারেবারেই তপ্ত হয়ে ওঠে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী এই সঙ্গীত নিয়ে কংগ্রেসকে তিরতীক্ষ্ণ আক্রমণ শানান, অন্যদিকে দেশে বিভাজনের লক্ষ্যে এই আলোচনা হচ্ছে বলে পালটা আক্রমণ করেন বিরোধীরা।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “আপনারা (বিজেপি) নির্বাচনের জন্য আছেন, আমরা আছি দেশের জন্য। কটা নির্বাচনে আমরা পরাজিত হয়েছি, এতে কিছু যায় আসে না, আমরা এখানে বসে আপনি ও আপনাদের আদর্শর বিরুদ্ধে লড়ছি।” দৃপ্ত কন্ঠে তিনি বলেন, “দেশের জন্য আমরা লড়াই করবোই, আপনারা আমাদের থামাতে পারবেন না। ”
প্রসঙ্গত, আগামী বছর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। সাম্প্রতিক বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, যে গঙ্গা বিহার থেকে বাংলায় যায়, এবার সেই পথেই তাঁরাও বাংলা জয়ের পথে যাবেন ।আজ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও বলেন, সংসদের এই মূল্যবান সময়কে মানুষ তাঁদের যে কাজের জন্য নির্বাচিত করেছেন, তাই করা উচিত।
সারা দেশের হৃদয়ে যে বন্দে মাতরম সদা সর্বদা বিরাজ করে, তাকে নিয়ে সংসদে কেন বিতর্ক হবে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এই গান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন,এটি সম্পুর্নভাবে সাম্প্রদায়িকবাদীদের তৈরি।
নিজের বক্তব্যর সমর্থনে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠি উদ্ধৃত করেন। বিজেপির উদ্দেশ্যে তীব্র কন্ঠে বলেন, বন্দেমাতরম কে জাতীয় সঙ্গীত করার কালানুক্রমটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিরও উদ্ধৃতি দেন।
কোন প্রেক্ষিতে ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস কার্যকরী সমিতির প্রস্তাবে বন্দে মাতরমকে জাতীয় সঙ্গীত করা হয়েছিল তার ব্যাখ্যা দেন।
কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বক্তব্য মুগ্ধ হয়ে শোনেন।

Be the first to comment