আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু আজ, অভিযুক্ত মায়ানমার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : আন্তর্জাতিক আদালতে আজ রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু হচ্ছে। অভিযুক্তর কাঠগড়ায় মায়ানমার। গত এক দশকের বেশি সময়ে এইটিই হবে জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ আদালতে প্রথম গণহত্যা মামলার শুনানি।
এই মামলার বিচারের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্বের বহু দেশ। মনে করা হচ্ছে, এর ফলাফলের প্রেক্ষিতে গাজায় ইস্রায়েলি আক্রমণ, আইসিজে-তে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণে প্রভাব পড়তে পারে। প্রত্যাশিতভাবে মায়ানমার এই সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে।
সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গণহত্যার সংজ্ঞা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে এই মামলা নজির সৃষ্টি করতে পারে।
২০১৯ সালে আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশ গাম্বিয়া এই মামলা দায়ের করেছিল। মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী ২০১৭ সালে ভয়ংকর আঘাত হানে। এর ফলে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। তাঁরাই পরে মায়ানমারের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলি সর্বসমক্ষে আনেন। এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র সঙ্ঘের এক কমিটি তদন্তে নামে, ওই হামলাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে। মায়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে, মুসলিম জঙ্গিদের হামলা প্রতিহত করতে এটি বৈধ সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান ছিল। উল্লেখ্য, ওই সময় মায়ানমারের শাসক ছিলেন নোবেল পুরষ্কার জয়ী সু চি৷ ২০২১ সালে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে বন্দি করে জুন্টা সরকার। মায়ানমারে গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য এই সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করলেও বিরোধীরা তা বয়কট করেছেন। একে নির্বাচনের নামে প্রহসন আখ্যা দিয়েছেন তাঁরা। এই নির্বাচনে সু চি ও তাঁর দলকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি।
আজ নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে, তিন সপ্তাহ ধরে তা চলবে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই শুনানিতে প্রচার মাধ্যম, সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই।
মায়ানমারের প্রাক্তন নেত্রী সু চি এখনও কারান্তরালেই আছেন। জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণআন্দোলনে অগ্নিগর্ভ দেশটি এখন গৃহযুদ্ধে কার্যত বিধ্বস্ত।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*