পিয়ালি :
রাজ্যে কংগ্রেস ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়বে এই সিদ্ধান্ত তো হয়েছে কয়েকদিন আগে। হাই কমান্ডের সামনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, তারা একাই লড়তে চান। হাই কমান্ডও এ বিষয়ে একমত হন, সম্মতি দেন। প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাজো সাজো রব। ২৯৪টি কেন্দ্রেই প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। তাই অনুরোধ আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন স্তর থেকে। রাজনীতির আঙ্গিনার পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্টজনদেরও টিকিট দেয়ার কথা ভাবছে কংগ্রেস। প্রার্থী করার ক্ষেত্রে প্রবীণ-নবীন এই দুইয়ের মিশেল ঘটানো হবে।
রাজ্যে কে হবেন কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ? সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, আমরা দলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আগে বিধায়করা নির্বাচিত হন তারপর তাদের মধ্যে থেকেই কেউ উঠে আসবেন, যাকে বিধায়করা পছন্দ করবেন। এখন থেকে মুখ ঘোষণার কিছু নেই।
কংগ্রেসের অন্দরমহলে উঁকি মারলে শোনা যায় যে ইস্তেহার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে পুরো দমে তবে কি এ মাসের শেষেই প্রকাশিত হবে ইশতেহার?
রাজ্যে যদি এক দফায় নির্বাচন হয় তাতে কোন আপত্তি নেই শুভঙ্কর বাবুর। শুধু ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার, রক্তপাতহীন নির্বাচন কাঙ্খিত এ কথা তিনি বলেন। নির্বাচন এক দফা হোক বা কয়েক দফা মানুষ যাতে শান্তিতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা উচিত বলেন শুভঙ্কর বাবু। এক্ষেত্রে তিনি ২০১১ সালের রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে সেই ভাবে কাজ করার কথা বলেন।
রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি বা বেকার ভাতা পুনরায় চালু করা নিয়ে শুভঙ্কর বাবু বলেন আমরা ভাতা দেওয়ার বিরোধী নই। কিন্তু তার পাশাপাশি মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্প গড়ে তুলতে হবে। বড় শিল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প, মৎস্য চাষ ভিত্তিক শিল্প ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তুলতে হবে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন বর্ধমান ও হুগলিতে আলুর চাষ খুব বেশি হয়, উৎকৃষ্ট মানের আলু। অথচ সেখানকার দোকানে যে চিপস পাওয়া যায় সেগুলি অন্য রাজ্য বা বাইরে থেকে তৈরি হয়ে আসে। অর্থাৎ আমরা কৃষিজ উৎপাদন ভালো করলেও সেগুলিকে ব্যবহার ঠিক মতো করতে পারি না। এইসব ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বেকার ভাতা পুনরায় চালু হল কিন্তু এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নেই তাহলে কি পার্টির লোকেরা বেকার ভাতা পাবেন কারা পাবেন তাই বেকার ভাতা থাকুক কিন্তু তার পাশাপাশি নিয়মিত ভাবে হোক স্কুল সার্ভিস কমিশন ও কলেজ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন এআইএমআইএম-এর রাজ্য সভাপতি বলেছেন সিপিআইএম জোটের ব্যাপারে তাদের সঙ্গেও কথা বলতে চান, শুভঙ্কর বাবুর প্রতিক্রিয়া কি? উত্তরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন আমরা জাতীয় কংগ্রেস করি আমরা হিন্দু-মুসলিম শিখ ইশাহী খ্রিস্টান বুঝি না, মানুষ বুঝি। আমরা বাংলা তথা ভারতের বহুত্ববাদের কথা বলি। যারা মনুবাদে বিশ্বাস করেন অথবা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করেন তাদের পাশে আমরা নেই।
শুধু জেতার জন্য যে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা তাতে বিশ্বাস করি না। আমাদের নেতা রাহুল গান্ধী আমাদের সংবিধানকে প্রাধান্য দেন।
তবে বাংলার মানুষ তথা রাজ্যের ভোটারদের বিচক্ষণ ও সচেতন বলে উল্লেখ করে শুভঙ্কর বাবু বলেন তারা সবই বোঝেন। রাজ্যে প্রচারে আসার লিস্টে মল্লিকার্জুন খার্গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নাম আছে বলে জানান শুভঙ্কর বাবু, হবে রোড শো। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক চমক লুকিয়ে আছে বলে কংগ্রেসের অন্দরমহল থেকে জানা যায়। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে শুভঙ্কর বাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় ওবিসি সেল-এর কো অর্ডিনেটর আর. জি প্রজাপতি, প্রাজ্ঞ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী ও সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য, এবং দুই বর্ষিয়ান কংগ্রেস নেত্রী মায়া ঘোষ ও কৃষ্ণা দেবনাথ, কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরী।

Be the first to comment