রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় প্রশাসনিক স্থায়িত্ব ও সুষ্ঠু পরিষেবা নিশ্চিত করতে পদাধিকারীদের অপসারণ সংক্রান্ত নিয়মে বদল আনল রাজ্য। শনিবার এই সংক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ গৃহীত হল রাজ্য বিধানসভায়।।এই নতুন আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের প্রধানদের অপসারণ সংক্রান্ত বৈঠক নির্বাচনের পর প্রথম তিন বছরের মধ্যে ডাকা যাবে না। আগে এই সময়সীমা ছিল আড়াই বছর। ফলে প্রধান, উপ-প্রধান, সভাপতি, সহ-সভাপতি, সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতিদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জন্য এখন তিন বছরের সময়সীমা কার্যকর হবে। এই বিল নিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, যে কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের স্থায়ী রূপায়নের জন্য অন্তত তিন বছর সময় প্রয়োজন। সেই কারণেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের উপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আইআইএম বা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে পৃথক সেল গড়ে প্রায় সাড়ে ৭৪ হাজার পঞ্চায়েত সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সময়সাপেক্ষ ও জটিল কাজ। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে পঞ্চায়েত স্তরে দক্ষতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, অর্থ কমিশনের টাকা সরাসরি পঞ্চায়েতের কাছে পৌঁছায় এবং সেই অর্থ অন্যত্র খরচ করার সুযোগ নেই। ফলে উন্নয়নমূলক কাজে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থায়িত্ব অত্যন্ত জরুরি। আলোচনা শেষে ধ্বনি ভোটে বিলটি গৃহীত হয় বিধানসভায়।

Be the first to comment