পিয়ালী:
বয়স এখনো ৪০ হয়নি। দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ডক্টর কানাইয়া কুমার কংগ্রেসের একজন বিশিষ্ট নেতা। কলকাতায় সহ বাংলায় এসেছেন ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রচার করতে। ব্যস্ত সিডিউল। তারই মাঝে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন কানহাইয়া কুমার। স্পষ্ট ভাষায় বললেন বিজেপি যদি এখানে জেতে তাহলে বাংলার বিভাজন করবে, বাংলায় ছড়িয়ে পড়বে হিংসার রাজনীতি। তাই বলে তৃণমূল কংগ্রেসকেও ছেড়ে কথা বলেননি তিনি। কংগ্রেসি আমলে বাংলার ভারী শিল্পসহ যেসব উন্নয়ন হয়েছিল তার উল্লেখ করে তিনি বলেন তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে সেই উন্নয়ন কোথায়? দিল্লিকে কেন্দ্র করে যেমন নয়দা গুরগাঁও ইত্যাদি গড়ে উঠেছে বাংলায় সেরকম নিদর্শন কোথায়? বিভাজনকে রুখতে পারে একমাত্র উন্নয়ন বলেন কানহাইয়া। কংগ্রেস বাংলার জন্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আসছে। তিনি মনে করিয়ে দেন গোখেলের সেই উক্তি হোয়াট বেঙ্গল থিংকস টুডে ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমোরো। বিজেপির অনুপ্রবেশকারী নিয়ে বক্তব্যকে খন্ডন করে তিনি বলেন বাংলায় যারা বাস করে তারা সবাই বাঙ্গালী। কানাইয়া বলেন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেকোনো উপায়ে বাংলা দখল করতে চান।

এক প্রশ্নের জবাবে কানহাইয়া বলেন, বিজেপি যে পূর্বোদয় অর্থাৎ পূর্বের রাজ্যগুলির উন্নয়নের কথা বলছে তা ভাওতা ছাড়া আর কিছুই নয়। মনিপুর জ্বলছে, মহিলাদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। জুমলা করা সরকার। উন্নয়ন যদি করতে হতো এর আগে করেননি কেন? কলকাতার শহরে কোথায় উন্নয়ন? বাংলার মানুষের রুটি রুজি কর্মসংস্থানের জন্য এদের কি চিন্তাভাবনা? বাংলার শ্রমিকেরা পরিযায়ী হয়ে অন্য রাজ্যে কাজ করে, সেখানেও তাদের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে টিকে থাকা মুশকিল। নির্বাচন কমিশন লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোট কাটলেন এসআইয়ারের নামে। কর্মসংস্থান মানুষের জীবন জীবিকা প্রভৃতি প্রকৃত প্রয়োজনের কথা না ভেবেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি তুতু ম্যায় ম্যায় এর রাজনীতি করছে।

বিজেপির অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ দখলের স্বপ্ন নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গ কে ভঙ্গ করার চেষ্টা করবে। এমনকি কানাইয়া এ কথাও বলেন বাংলাকে ভেঙে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার চেষ্টা করবে বিজেপি। বিজেপির ইতিহাসই হল বিদেশি শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করা। ইঙ্গিত মোদীর ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করার দিকে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়ে বিজেপিতে এসে পরিষ্কার হয়ে গেছেন বলেন কানাইয়া। বিজেপি দেশের পোর্ট এয়ারপোর্ট প্রভৃতিকে বেচে দিচ্ছে বলেন তিনি। জুট মিলগুলো বন্ধ এ ব্যাপারে তৃণমূল বিজেপি কারুর কোন খেয়াল নেই। একমাত্র কংগ্রেসই পারে রাজনৈতিক সংঘর্ষ করে বিজেপিকে হটিয়ে বাংলা তথা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে।

Be the first to comment