প্রতিবেদন: পূর্বতন সরকার নিয়োগ করতে চায়নি। কিন্তু তাঁর সরকারের অগ্রাধিকরই হল নিয়োগ। বুধবার সমবায় দফতরে ১৪৯ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে আরও এক লক্ষ যুবক, যুবতীর চাকরি দেবে তাঁর সরকার। এদিন নবান্ন সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তার সরকারের নিয়োগের খতিয়ান তুলে ধরেন। যেখানে পুলিশে ১২ হাজার, শিক্ষায় ৩৩ হাজার, পঞ্চায়েতে ৭ হাজারের মতে পদ রয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ৬৩ হাজার ৪৯৬ জনের হাতে নিয়োগ তুলে দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৬০ হাজার ৮৩৮টিই স্থায়ী পদ। আগামী দিনেও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা মেনে রাজ্য সরকারি চাকরিতে এই নিয়োগ বজায় থাকবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে রাজ্য সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর করা হচ্ছে। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি মতো বয়সের উর্ধ্বসীমায় এই পাঁচ বছরের ছাড়ের প্রস্তাবটি ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে এবং আগামী বছর থেকেই তা কার্যকর হতে চলেছে বলেও তিনি জানান। এদিন নবান্ন সভাঘরে পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা পিএসসির মাধ্যমে নির্বাচিত সমবায় দফতরের ১৪৯ জন কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টরের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। সেই মঞ্চ থেকেই পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পর এসএসসি এবং ২০১৭ সালের পর পিএসসি-তে কোনও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ রেখে গোটা রাজ্যকে একটি সিভিক প্রদেশে পরিণত করা হয়েছিল। এর ফলে রাজ্যের যে শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং যাঁদের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই বয়সের বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারের সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও এ দিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ মে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এক বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী, পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি দফতর মিলিয়ে অন্তত এক লক্ষ শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ সম্পূর্ণ করা হবে। সংরক্ষণের সমস্ত বিধি মেনে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে এই নিয়োগ হবে। পিএসসি, এসএসসি বা পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মতো সংস্থাগুলিতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনার পেছনে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জট কাটানোকেই প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তিনি বলেন, বিগত সরকার তোষণের রাজনীতির কারণে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা তৈরি করেছিল এবং জনগণের করের টাকায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঝুলিয়ে রেখেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই বিধানসভায় আইন পাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় এবং জাতীয় ওবিসি কমিশনের তালিকা মেনে ৭ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করেছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমবায় ও খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া, সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, পিএসসি-র চেয়ারম্যান অনিল ভার্মা এবং সমবায় সচিব অবনীন্দ্র সিং প্রমুখ।

Be the first to comment