চোরবাগান থেকে সতর্ক প্রশাসন, ভোলানাথ ধামের দত্ত বাড়িতে কি উড়বে ফানুস? নাকি ভাঙবে শতবর্ষের পরম্পরা?

Spread the love

পিয়ালি :

উত্তর কলকাতার ভোলানাথ ধামের ফানুস উৎসবের কথা ফেরে লোকের মুখে মুখে। কলকাতার বাবু সম্প্রদায়ের ফানুস ওড়ানো তো বহু প্রাচীন রীতিনীতি মধ্যে একটি। ৩৩/২ বিডন স্ট্রীটে পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে কালীপুজোর দিনে ফানুস ওড়ানো হয় এই দত্ত বাড়িতে।

শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস বয়ে চলেছে এই ফানুস ওড়ানো। ভোলানাথ ধামের কর্তা, যাদব লাল দত্ত এই ফানুস ওড়ানো প্রথম প্রচলন করেন। পরে উত্তরাধিকারী অজয় দত্ত এই পারিবারিক পরম্পরাকে বয়ে নিয়ে চলেন, বলা ভালো তাঁর আমলে এই ফানুস উৎসবের বা ফানুস ওড়ানোর খ্যাতি উত্তর কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। এই বনেদি বাড়ি অর্থাৎ দত্ত বাড়ির সদস্যরা নিজেরাই ফানুস তৈরি করতেন ।অপূর্ব সুন্দর রংবেরঙের হতো সেই ফানুস। তখন দেশ স্বাধীন হয়নি। ১৯২৪ ভিন্ন মতে ১৯২৫, সালে উত্তর কলকাতার এই অভিজাত পরিবার প্রথম ফানুস ওড়ানো শুরু করে। ধুমধাম করে ২০২৫ সালে পালিত হয়েছে শতবর্ষ।

এ বারে রাজ্য সরকারের তরফে নিরাপত্তা জনিত কারণে ফানুস ওড়ানোর প্রতি রয়েছে বিধিনিষেধ। দীপাবলীর বাজি পোড়ানো নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ বলেন সবুজ বাজি কালীপুজোর দিন রাত্রে  ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে পোড়ান,অবশ্যই শব্দবিধি মেনে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন ফানুস ওড়ানো নিয়ে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল সিদ্ধিনাথ গুপ্ত বলেন ফানুস ওড়াতে গেলে লাগবে লাইসেন্স, নিতে হবে রাজ্য সরকারের পরিবেশ দপ্তর ও দমকল বিভাগের অনুমতি।

কিন্তু কি হবে ভোলানাথ ধামের দত্ত বাড়ির এই ফানুস ওড়ানোর পরম্পরা! ১৯২৫ সালে এই দত্তবাড়ি যখন শোভাবাজার থেকে বিডন স্ট্রীটে স্থানান্তরিত হয় তখন থেকেই এই ভোলানাথ ধামে কালীপুজোর দিন বিকেলে তিনটে থেকে পাঁচটা অব্দি সুদৃশ্য ফানুস ওড়ানো হয়।

২০২৪ এ শতবর্ষের পালনের দীপাবলিতে এই পারিবারিক তথা ঐতিহ্যপূর্ণ উৎসবের শতবর্ষ পালিত হয়। এখন প্রশ্ন হল এই শতবর্ষ প্রাচীন উত্তর কলকাতার ফানুস উৎসব কি এবারে অনুমতির জালে বন্ধ হয়ে যাবে? এ কথা ঠিক  উত্তর কলকাতার চোর বাগানে এবছর দুর্গাপুজোয় মানুষের ভুলে যে ১৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। স্বাভাবিকভাবে প্রশাসন ও সতর্ক। বিশেষ করে উত্তর কলকাতায় অপ্রশস্ত্ গলি এবং লাগোয়া বাড়ি থাকার কারণে ফানুস ওড়ানোর সমস্যা তো আছে। কিন্তু চেবাগানেরই  দত্ত বাড়ির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের নান্দনিকতার দিকটিও ফেলে দেওয়ার নয়। শোভাবাজার রাজবাড়িতে একসময়  জোড়া নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হতো বিজয়া দশমীর দিন। উমা বিদায়ের ঠিক একটু আগে নীলকন্ঠ পাখিরা কৈলাসে শিবের কাছে বার্তা নিয়ে যেত  যে উমা ফিরছেন। পরিবেশ দপ্তরের বিধি নিষেধে পাখিদের ওড়ানো নিষিদ্ধ হয়েছে। এখন মাটির তৈরি নীলকন্ঠ পাখি দিয়ে পারিবারিক আভিজাত্য ও প্রথা মানতে হয়। তেমনি ভোলানাথ ধামের দত্ত পরিবার এবারে কি প্রতীকী ফানুস উড়িয়ে পরম্পরা বজায় রাখবেন?

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*