রোজদিন ডেস্ক : বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ল।
কৃষি, স্কুলশিক্ষা, প্রি-স্কুল পরিকাঠামো ও চা-বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার মত একাধিক ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ।
কৃষিমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, আলুর দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে আলু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্চ মাসে আলু ওঠা শুরু হলে প্রতি কেজি ৯ টাকা ৩০ পয়সা দরে আলু কেনা হবে। আপাতত ১২ লক্ষ টন আলু কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জুন মাসের পর হিমঘর থেকে ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া হবে সেই আলু। গত ১৪ বছরে মোট পাঁচবার সরকার আলু কিনেছে, প্রায় ৩১ হাজার টন আলু কেনা ও ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য রাজ্যে আলুর দাম কমতে শুরু করায় আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষক যাতে অভাবী বিক্রিতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য, এমনই জানান মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, স্কুলশিক্ষা ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য এগোচ্ছে। ২,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে পাঁচ বছরে ৪৩০টি মডেল স্কুল গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ব্লকে একটি করে এবং ৮৭টি অনগ্রসর ব্লকে দুটি করে স্কুল স্থাপন করা হবে। আধুনিক পিপিপি মডেলে এই স্কুলগুলি চালু হবে। সব স্কুলে বাংলা ও ইংরেজি দুই মাধ্যমেই পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। মনিটরিং ও মূল্যায়নের পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বড় সংখ্যায় শিক্ষক নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে। এডিবি-র সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, প্রি-স্কুল স্তরে আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র উন্নয়নের লক্ষ্যে ২,১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ অর্থ দেবে এডিবি এবং ৩০ শতাংশ রাজ্য সরকার। পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিশুদের উন্নত মানের শিক্ষাসামগ্রী ও পুষ্টি, এবং কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হবে।
শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানান, চা-বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা জোরদার করা হচ্ছে। দেড় মাসে ১৯টি চা বাগানে হেলথ সেন্টার খোলা হয়েছে। তুড়তুড়ি চা-বাগানও পুনরায় চালু হয়েছে। ৯৫টি ক্রেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের সন্তানদের খাদ্য ও পুষ্টির ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে ১৯টি চা-বাগানে প্রায় ১৩ হাজার ৭৪৪ জন শ্রমিক কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

Be the first to comment