রোজদিন ডেস্ক : উৎসবের মরশুম আসলেই অথবা বছরের বিশেষ কিছু দিনগুলিতে ছবি মুক্তির হিড়িক পড়ে যায় টলিউডে। সবাই একসঙ্গে ছবি রিলিজ করতে চায়। ফলে কোনও ছবিই পর্যাপ্ত হল পায় না। মার খায় ছবির ব্যবসা। এতে আখেরে ক্ষতি গোটা ইন্ডাস্ট্রির। সিনেমা রিলিজ করা নিয়ে প্রযোজকদের মধ্যে চলা এই প্রতিযোগিতায় রাশ টানতে এবার এগিয়ে এল টলিপাড়া। দেরিতে হলেও তাঁরা বুঝেছে এমনটা চলতে পারে না। ক্রিসমাসে একসঙ্গে বড় তিনটে বাংলা ছবি মুক্তির সিদ্ধান্ত বদল থেকে উৎসবের মরশুম বা উল্লেখযোগ্য দিনগুলোতে কীভাবে সিনেমা মুক্তি পাবে তা নিয়ে বুধবার ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত এবং রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ স্ক্রিনিং কমিটি বৈঠক করে অভিনব এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্যের সব সিনেমা হলে বাংলা সিনেমাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রাইম টাইম শো দেওয়ার ঘোষণা আগেই হয়েছে। কিন্তু তাতেও টলিউডের ছবি মুক্তির সমস্যা কাটছে না। কেউ ক্ষমতা আর অর্থের জোরে বেশি শো পেয়ে যাচ্ছে, আবার অনেক ছবি ভালো হওয়া সত্ত্বেও সমান ভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছচ্ছে না। তারই সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে ওই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, গোটা বছরে বাংলা ছবির মুক্তির জন্য ১১টি বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করা হবে। এর মধ্যে থাকছে নেতাজির জন্মদিন, সরস্বতী পুজো, পয়লা বৈশাখ, মে মাসের দুটি পর্যায় অর্থাৎ যে সময় গরমের ছুটি থাকবে (১-১৫ মে ও ১৫-৩১ মে, ), ইদ, স্বাধীনতা দিবস, দুর্গাপুজো, কালীপুজো এবং বড়দিন। নিয়ম অনুসারে যে প্রযোজনা সংস্থা বছরে ছটি বড় ছবি নিয়ে আসবে তাদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে। তারা চারটি ছবি উৎসবের দিনে মুক্তির সুযোগ পাবে। এক বছরের চারটি ছবি করলে সে ক্ষেত্রে দুটি উৎসবের দিন মিলবে মুক্তির জন্য। আর যে প্রযোজকরা ২ বা ৩টি ছবি তৈরি করবেন তারা নিজেদের সিনেমা রিলিজের জন্য উপরের তালিকা অনুযায়ী উল্লেখিত দিনগুলোর মধ্যে যে কোনও একটা বিশেষ মরশুম পাবেন। নতুন নিয়মে শর্ত হচ্ছে, কোনও বড় প্রযোজনা সংস্থা নির্দিষ্ট উৎসবের ছবি মুক্তির দিনগুলির আগে বা পরে টানা ১৪ দিনের মধ্যে, তাঁদের নতুন ছবি রিলিজ করতে পারবেন না। সিনেপ্রেমীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন বেশি ছবি করতে প্রযোজক ও পরিচালকদের উৎসাহ দেওয়া হবে, আবার এতে একই সময় একাধিক ছবি মুক্তির জট কাটানো সম্ভব হবে।

Be the first to comment