রোজ দিন ডেস্ক, কলকাতা:– তৃণমূলে যোগদান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লার। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, এবং রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাত ধরে জোড়া ফুলে যোগদান করলেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ।
গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি টিকিট না দেওয়ায় দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লা। তখনই ফুলবদলের জল্পনা শুরু হয়। পরবর্তীতে দিল্লি গিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতও করেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ। তারপর বেশ কিছুদিন রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি তাঁকে। কয়েক মাস আগে নতুন করে মাথাচাড়া দেয় জন বার্লার দলবদলের জল্পনা। কারণ, প্রাক্তন সাংসদ নিজেই বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী সুযোগ দিলে তিনি একসঙ্গে কাজ করতে চান। এরপর গত জানুয়ারিতে কালচিনিতে মুখ্যমন্ত্রীর সভামঞ্চে দেখা যায় তাঁকে।
তবে সেই সময় তৃণমূলের পতাকা হাতে নেননি জন বার্লা। ফলে তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা জারি ছিলই। এরই মাঝে গত রবিবার সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক বিজেপি নেতা গিয়েছিলেন প্রাক্তন সাংসদদের বাড়িতে। সেই সময় মনে করা হচ্ছিল, দলের সঙ্গে দূরত্ব ঘুঁচল বার্লার। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হল ভাঙন। অবশেষে তৃণমূলে যোগ দিলেন জন বার্লা। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই দলত্যাগ উত্তরবঙ্গের ভোটে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহলমহল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতায় তৃণমূল ভবনে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসদের উপস্থিতিতে তিনি ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন। তিনি নিজেই জানান, ছয়-সাত মাস ধরে আলোচনা চলছিল। বিজেপিতে থেকে উন্নয়নের কাজ করা যাচ্ছিল না। তাই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। দলত্যাগ করেই এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে নিশানা করেন বার্লা। তিনি জানান, রেলের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল গড়তে চেয়েছিলেন তিনি। তবে শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বাধায় এমনটা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বারলা। যদি উন্নয়ন না করা যায় তাহলে বিজেপিতে কেন থাকবেন সেই প্রশ্নও তোলেন বার্লা।


Be the first to comment