রোজদিন ডেস্ক : বর্তমান বিশ্ব এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা ও ওষুধ আবিষ্কারের মতো ক্ষেত্রগুলিতে প্রতিদিনই নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্রমাণ করে দিলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তরুণরাই পারে ভবিষ্যতের সমস্যার সমাধান খুঁজে দিতে। কলেজে অনুষ্ঠিত কথাকলি দেবনাথ ইনোভেশন সেন্টারের উদ্যোগে মঙ্গলবার সফল ছাত্রছাত্রীদের পুরষ্কৃত করা হয়। পুরষ্কার তুলে দেন কলেজের অধ্যক্ষা ডক্টর মধুমঞ্জুরী মন্ডল, নরওয়ের অসলো-ভিত্তিক একটি সংস্থার চিফ বিজনেস অফিসার ও এই ইনোভেশন সেন্টারের -এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক গৌতম দেবনাথ, কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর, জেনারেল ম্যানেজার প্রবীণ কুমার দাস প্রমুখ।
বক্তারা জানান, এই ইনোভেশন সেন্টার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গবেষণামুখী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও বাস্তব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চলমান ডিজিটাল বিপ্লবে যানবাহনের তথ্য সুরক্ষা একটি বড় প্রশ্ন। স্মার্ট গাড়ি ও ইলেকট্রনিক ডেটা লগিং সিস্টেমের যুগে ব্যক্তিগত তথ্য সহজেই অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়ছে। এই সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তিন ছাত্র সাগ্নিক চক্রবর্তী, সৌর্য সরকার ও সায়ন সাহার প্রকল্প “হোয়াইট বক্স”।

এই উদ্ভাবনে হার্ডওয়্যার, ব্লকচেন প্রযুক্তি ও উন্নত ক্রিপ্টোগ্রাফির সমন্বয়ে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে গাড়ির ডেটা নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকবে, অথচ ব্যবহারকারীর গোপনীয়তাও বজায় থাকবে। দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ, বীমা দাবি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এই প্রকল্পের জন্য দলটি কে ডি স্টেম ফাউন্ডেশানের পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার পেয়েছে।
পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক বিকল্প হিসাবে, পোকা বা কীট প্রতিরোধক ‘’বায়োশিল্ড প্যাচ’ তৈরি করেছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ছাত্রী সাফিনা পাল, অস্মিতা মণ্ডল ও অনুসূয়া ভৌমিক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ওষুধ আবিষ্কারের নতুন পথ ‘’আলফা ডক’ বা একটি মানব-এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে নতুন ড্রাগ ডিসকভারি প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নির্ভুল ও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে অন্য একটি ইনোভেশন প্রকল্পে।
বর্তমান বিশ্বে এই ধরনের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবনই আগামী দিনের টেকসই ও মানবিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে পথ দেখাবে।

Be the first to comment