এক বাঙালি সাংবাদিকের পচাগলা দেহ উদ্ধার হল নয়ডার ফ্ল্যাট থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, ববিতা বসু নামের ৫২ বছরের ওই সাংবাদিক অন্তত তিন সপ্তাহ আগেই মারা গেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে প্রাথমিক তদন্তে।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মরত এই সাংবাদিক বেশ কিছু দিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন বলে তাঁর পরিবার সূত্রের খবর। ডায়ালিসিসও চলছিল তাঁর। একমাত্র ছেলে পাঁচ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরিরত। গত বছরে ববিতার কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা বলেন চিকিৎসকেরা। ববিতা ডোনারের খোঁজ করতে চেন্নাইয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাচ করেনি কিডনি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত দু’বছর ধরে নয়ডার ৯৯ নম্বর সেক্টরের সুপ্রিম টাওয়ার অ্যাপার্টমেন্টের ১৬তলার একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন ববিতা। ষোলো তলার করিডরের একেবারে শেষ প্রান্তে তাঁর ফ্ল্যাট ছিল। অসুস্থতার কারণে খুব বেশি বেরোতেন না ফ্ল্যাট থেকে। তাঁর বাড়িওয়ালা অরুণ সতীঝা জানান, শেষ এক সপ্তাহ ধরে ববিতাকে ফোন করে পাচ্ছিলেন না তিনি। ববিতার ছেলেও বেঙ্গালুরু থেকে অরুণকে ফোন করে জানান, তিনি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
শেষমেশ, বাড়িভাড়ার চুক্তি পুনর্নবীকরণ করার প্রয়োজনে ববিতার ফ্ল্যাটেই চলে আসেন অরুণ। তখনই দুর্গন্ধ পান ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে। ছেলেকে খবর দিলে তিনিও বিমান ধরে চলে আসেন নয়ডায়। এর পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙে। তখনই উদ্ধার হয় পচা-গলা দেহ।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাঁরা কোনও কিছুই আঁচ পাননি। ববিতার ফ্ল্যাট করিডরের একেবারে শেষ প্রান্তে, তাই কোনও দুর্গন্ধও আসেনি বলে দাবি তাঁদের।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, কম করে ২০-২৫ দিন আগে মারা গিয়েছেন ববিতা। তবে এখনও পর্যন্ত তা রোগে ভুগে মৃত্যু বলেই মনে করছে পুলিশ। দেহ ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে।

Be the first to comment