রোজদিন ডেস্ক :
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য নিয়ে প্রায়শই গর্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল। সম্প্রতি আমেরিকার এক রিপোর্টে এর বিপরীত কথা ই আছে বলে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সম্প্রতি আমেরিকার এক কমিশনের রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বড় “সাফল্য “(!)। নিজের বক্তব্যর সমর্থনে সমাজ মাধ্যমে রিপোর্টও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, এই রিপোর্ট বিস্ময়কর ও বোধগম্য নয়। কেন এই সব লেখা হল সেই বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিবাদ করা উচিত।
জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, মার্কিন কমিশনের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পহেলগাঁও এ আচমকা আক্রমণ হয়েছিল। অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের সাফল্য, সেই ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়, অত্যাধুনিক চিনা অস্ত্রে ইসলামাবাদ সাফল্য পেয়েছে। যা নিয়ে রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করে জয়রাম রমেশ বলেন, এটি তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না।
মার্কিন সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই কমিশনে ১২ জন নির্দল সদস্য আছেন। ৮০০০ পাতার এই রিপোর্টের ১০৮ ও ১০৯ পাতাগুলির প্রতিবেদন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জয়রাম রমেশ।
অপারেশন সিঁদুর আচমকা বন্ধ রাখা ও তিনিই ভারত – পাকিস্তানের যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে ট্রাম্পের বারবার দাবি করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, এখন অবধি ট্রাম্প ষাট বার এই দাবি জানালে ও প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন?? তিনি কি এই নিয়ে আপত্তি ও প্রতিবাদ জানাবেন?? বিদেশ মন্ত্রক কবে তাদের প্রতিবাদ জানাবে??
আমেরিকার এই রিপোর্টে এমনও বলা হয়, ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংসে পাকিস্তান চিনের অস্ত্র ব্যবহার করে। এর জন্য চিনা অস্ত্রের বাণিজ্যিক দাম ও কদর বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।
একে হাতিয়ার করে এবার প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করছে কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, শুল্ক নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কাছে কেন্দ্র নতি স্বীকার করেছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এই চাপের মুখে কম দামে রাশিয়ার তেল, পেট্রোপণ্য না কিনে আমেরিকার থেকে তা কিনতে চলেছে ভারত। সিপিআইএমের অভিযোগ, এর ফলে দেশে রান্নার গ্যাস-সহ পেট্রোপণ্যের দামবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা।
এবার কংগ্রেস ও প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সরকার, দলের মার্কিন প্রীতি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলে দিলো।

Be the first to comment