রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর :
আবারও জাতীয় স্তরে গৌরবের পালক জুড়লো কৃষ্ণনগরের মুকুটে। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক ও হস্তশিল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের “শিল্পগুরু পুরস্কার”-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি এলাকার প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী তড়িৎ পাল। দেশের হাতের কাজের জগতে এই পুরস্কারটি শিল্পীদের কাছে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয়।
তড়িৎবাবুর পুরস্কারপ্রাপ্ত কাজটি দক্ষিণ ভারতীয় ঘরানায় নির্মিত এক অভিনব ‘বিষ্ণু বিশ্বরূপ দর্শন’ মূর্তি। সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে তৈরি এই ১৮ ইঞ্চি উচ্চতার মূর্তিতে সূক্ষ্ম কারুকাজে ফুটে উঠেছে পৌরাণিক বিশালতার মহিমা। মূর্তির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬৮টি ক্ষুদ্র মানব ফিগার, ৩০টি হাতি ও ঘোড়া, এবং ২০টি মাথা ও ২০টি হাত বিশিষ্ট বিষ্ণুর প্রতিমূর্তি—যার প্রতিটি হাতে ভিন্ন অস্ত্র, আর গলায় মালার ফাঁকে ফাঁকে বসানো নানা দেবতা। মূর্তির নিচের অংশে সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্র।

এই অনন্য শিল্পকর্মটি সম্পূর্ণ করতে তড়িৎ পাল ও তাঁর দলকে লেগেছে প্রায় চার মাস সময়। তিনি জানান, এক পত্রিকায় এই পুরস্কারের বিজ্ঞাপন দেখেই তিনি অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে, ২০১২ সালে তিনি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি নির্মাণের জন্য।
গত শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, সরকারি দপ্তরের তরফে ই-মেলের মাধ্যমে তাঁর কাছে আসে এই সুখবর— ২০২৪ সালের শিল্পগুরু পুরস্কারের জন্য তাঁর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। খবরটি জানাজানি হতেই পরিবার ও সহশিল্পীদের মধ্যে আনন্দের হাওয়া বয়ে যায়।
আগামী দিনে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সম্মানজনক এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে তড়িৎ পালের হাতে।
কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প বহুদিন ধরেই সারা দেশে সুনাম অর্জন করেছে। তবে এই পুরস্কারের মাধ্যমে কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী ঘূর্ণির মৃৎশিল্প যেন আরও একবার জাতীয় মঞ্চে নতুন করে উজ্জ্বল হলো।
শহরের শিল্পমহল বলছে— “তড়িৎ পাল শুধু নিজে নন, কৃষ্ণনগরের শিল্প ঐতিহ্যকেও নতুন উচ্চতায় তুলে ধরলেন।”

Be the first to comment