দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত বিহারের চার কুখ্যাত দুষ্কৃতি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : এবার খোদ রাজধানী দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে  প্রাণ হারালো বিহারের চার কুখ্যাত দুষ্কৃতি। আজ কাকভোরে রোহিনীতে গুলির লড়াই-এ  সচকিত হয় সংশ্লিষ্ট এলাকা। নিহতদের মধ্যে রঞ্জন পাঠক (২৫) কে বহুদিন ধরেই পুলিশ খুঁজছিল। চারজনের বিরুদ্ধেই একাধিক খুন-সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আছে।

বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই দুষ্কৃতিরা হিংসাত্মক ঘটনার পরিকল্পনা  করছিল। “সিগমা অ্যান্ড কোম্পানি” শীর্ষক নামে রঞ্জন পাঠকের নেতৃত্বে এই দল ভয়ংকর সব অপরাধ করত বলে পুলিশ সুত্রে প্রকাশ। বিহার নির্বাচনের আগেই রাজ্যে হিংসার বাতাবরণ  তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল তারা। কুখ্যাত এই দলের মাথা রঞ্জন পাঠক আদতে সীতামারির বাসিন্দা।  নেপাল থেকে ও নেপাল সীমান্তে বিভিন্ন রকমের অপরাধ করত সে ও তার সঙ্গীরা।  দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ তাদের জালে ফেলার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি এক অডিওতে বিহার পুলিশ জানতে পারে, নির্বাচনের আগেই গোটা বিহারে সন্ত্রাসের  পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তারা পরিকল্পনা করছে।

সীতামারি-সহ বিহারে সম্প্রতি একের পর এক হত্যাকান্ড করে তারা। ২০/২৫ দিন আগে ব্রহ্মর্ষি সমাজের জেলা সভাপতি গনেশ শর্মাকে হত্যা করে তারা। সীতামারিতেই পাঁচটি খুনের অভিযোগে পুলিশ তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছিল। গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় তারা দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। দিল্লি পুলিশের সহায়তায় বিহার পুলিশ যুগ্মভাবে এই অভিযান করে। গত ছয় বছর ধরে এই দল সুপারি নিয়ে খুন জখম ইত্যাদি ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করেছে। বিহারের এই ত্রাস ক্রমেই পুলিশের মাথা ব্যথা হয়ে ওঠে। কিন্তু কিছুতেই তাদের নাগাল পাচ্ছিল না। এতই বেপরোয়া তারা, যে প্রতিটি খুনের পর রঞ্জন পাঠক প্রচার মাধ্যমে নিজের বায়োডাটা পাঠিয়ে দিত৷ প্রচন্ড নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত সে।  সীতামারির সাধারণ মানুষ রঞ্জন ও তার দলের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে দিন কাটাতেন। এমনই বেপরোয়া, নিষ্ঠুর তারা,  খুন তাদের কাছে জল ভাত ছিল। দিল্লিতে তারা গা ঢাকা দেওয়ার খবর পেয়ে খুব সন্তর্পণে সক্রিয় হয় বিহার পুলিশ। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের ছক কষা হয়।

আজ কাকভোরে পুলিশ এর সঙ্গে সংঘর্ষে রঞ্জন পাঠক ও তার তিন সাকরেদ নিহত হওয়ার খবর পেয়ে কিছুটা হলে ও স্বস্তিতে সীতামারির সাধারণ মানুষ।

নিহত অন্যরা হল বিমলেশ সাহানি (২৫), মনীশ পাঠক (৩৩) ও আমন ঠাকুর (২১)। নিহতদের ময়নাতদন্ত-সহ অন্যান্য প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*