কৃষ্ণনগর স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমি থেকে দোকান সরাতে শুরু করলেন হকাররা, জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় শতাধিক পরিবার

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া : 

কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বর ও স্টেশনের বাইরের রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা হকারদের মাসের শুরুতেই দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। সেই নোটিশ অনুযায়ী আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রবিবার কৃষ্ণনগর স্টেশন অ্যাপ্রোচ রোডের ধারে থাকা একাধিক দোকানদার নিজেদের উদ্যোগে দোকান খুলে সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

দোকানদারদের বক্তব্য, রেল কর্তৃপক্ষ যদি নির্ধারিত সময়ের পর উচ্ছেদ অভিযান চালায় এবং বুলডোজার দিয়ে দোকান ভেঙে দেয়, তাহলে তাদের বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা দোকান সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আগেভাগেই নিজেদের মতো করে দোকান খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা, যাতে অন্তত কিছু সামগ্রী ও কাঠামো রক্ষা করা সম্ভব হয়।

একজন বিক্রেতা বলেন, “রেল আমাদের ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। কিন্তু আমরা বুঝতে পারলাম, নিজেরা খুলে নিলে অন্তত কিছু জিনিস বাঁচানো যাবে। পরে যদি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। দোকান সরিয়ে নেওয়ায় আমাদের বড় ক্ষতি হচ্ছে। এই দোকানই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র রুজি-রোজগারের ভরসা।”

হকারদের দাবি, তারা আইন মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে উচ্ছেদের আগে যদি বিকল্প কোনও জায়গায় ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, তাহলে এত বড় সংকটের মুখে পড়তে হতো না। তাদের আবেদন, সরকার ও প্রশাসন যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানগুলির উপর নির্ভর করে বহু মানুষের জীবিকা চলেছে। হঠাৎ করে দোকান সরিয়ে দিতে হওয়ায় বহু পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। একই সঙ্গে এলাকায় ছোটখাটো কেনাকাটার সুবিধাও কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।

এখন সকলের নজর রেল প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়ে সরকার কী উদ্যোগ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*