রোজদিন ডেস্ক : আপনার সতর্ক থাকুন, অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় ভোটের সময় লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি। নদিয়ার চাকদহের মশড়া নবপল্লি মাঠের জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, লক্ষ লক্ষ সেন্ট্রাল ফোর্স পাঠানো হচ্ছে। আমাদের থাকতে দিতে হবে, খেতে দিতে হবে। তারপরেও তাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আমি সম্মান করি। কিন্তু রাস্তা আটকালে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করবেন। বিজেপি ইলেকশনের সময়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। কখনও ক্যাশ দেয়, কখনও গ্যাস দেয়। চাকদা, কল্যাণী ও হরিণঘাটা বিধানসভার প্রার্থী শুভঙ্কর সিংহ, ডা: অতীন্দ্র নাথ মণ্ডল ও ডা: রাজীব বিশ্বাসের সমর্থনে প্রচারে এসে ভোটের সময় সকলকে সতর্ক করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা বাড়লে দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় মঙ্গলবার তিনি দ্রুত সভা শুরু করেন। এরপর বনগাঁ ও হাবড়ায় তাঁর আরও দুটি সভা রয়েছে।
এরপরই কেন্দ্র ও কমিশনের আতাঁত নিয়ে তিনি বলেন, কথা দিয়েও কথা রাখে না বিজেপি। বহিরাগতদের বাংলায় নিয়ে এসে চক্রান্ত করছে। তাদের কথাতেই কমিশন কাজ করছে। নাম কাটছে, আর ভোট লুটছে। নাম বাদ গেলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। মঞ্চ থেকে এসআইআরে নাম বাদ নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে আমি নিজে দাঁড়িয়েছিলাম বলে ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষ লোকের নাম তালিকায় উঠে গিয়েছে। গতকাল তালিকা বেরিয়েছে। বাদ বাকিটাও ট্রাইব্যুনালে আমরা চেষ্টা করছি। অনেক নাম বাদ গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়ায়। উকুনের মতো বেছে বেছে নাম বাদ দিয়েছে। বাগদায় মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে। গাইঘাটা, চাকদহ, হরিণঘাটাতেও বাদ দিয়েছে। কথা দিয়ে যাচ্ছি, একটা লোককেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেব না। মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে। আমার কেন্দ্র ভবানীপুরেই ৪০ হাজার নাম বাদ দিয়েছিল। এখন দেখতে হবে কত নাম তুলেছে। বাংলায় বিজেপি-কে শূন্য করতে হবে, বাংলার মাটিকে পুণ্য করতে হবে। এবারের ভোট আপনাদের ঠিকানা বাঁচানোর লড়াই। তৃণমূল থাকা মানে মনে শান্তি থাকা। জীবনে ভালো থাকা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা।
সভায় রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ইনফরমেশন টেকনোলজি হাব হয়েছে। বাংলার ডেয়ারি বন্ধ ছিল, সেটা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ইস্কন মন্দিরের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। নতুন রাস্তা তৈরি করার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। সেই জন্য দেড় ঘণ্টায় কলকাতা থেকে রানাঘাট আসা যায়। কালনা থেকে শান্তিপুর পর্যন্ত একটা ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায়।

Be the first to comment