রোজদিন ডেস্ক : ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবায় বিপর্যয়ের জেরে গত কয়েকদিন ধরে ভেঙে পড়েছে দেশের বিমান পরিষেবা। চরম নাজেহাল যাত্রীরা। সোমবার কোচবিহার যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকেই এই নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কেন্দ্র জানা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেয়নি। সাধারণ মানুষ এর জন্য ভুগছে। কেন্দ্রেীয় সরকার মানুষের কথা ভাবে না। জেনে শুনে বিরাট বিপর্যয়ের মুখে সাধারণ মানুষকে ঠেলে দেওয়া হল। বাংলার সরকার মানুষের কথা ভাবে। তাই এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছি আমরা, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইন্ডিগো বিপর্যয় নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরের তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সাধারণ মানুষের জন্য বেশিরভাগ বিমান বন্ধ। বিমানের ভাড়া ৩ থেকে বেড়ে ৫০ হাজার হয়ে গেছে। এরকম অচলাবস্থা আগে কখনও দেখিনি।
সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই বিপর্যয় নিয়ে কেন্দ্রের সরকারের আগে থেকে পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। তাহলেই পরিস্থিতি সামলাতে পারত। কীভাবে আপনারা এভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করতে পারেন? এখন সময়ই মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা উড়ান ব্যবহার করেন ব্যবসা-সহ নানা কারণে। তাঁরা সাত-আট দিন ধরে হেনস্থার শিকার। তাঁরা বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। এটা মানসিক অত্যাচার। কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করবো, কিছু একটা পরিকল্পনা করুন যাতে অন্তত অর্ধেক বিমান উড়তে পারে, যত পাইলট রয়েছে তাঁদের নিয়ে আপনাদের ব্যবস্থায় যেমনভাবে সম্ভব। অন্তত বিকল্প কিছু ব্যবস্থা করুন। বলে দিচ্ছেন, ট্রেনে করে চলে যান। সেটা সম্ভব? বিমানে যে পথ ২ ঘণ্টায় যাওয়া যায় সেই পথ যেতে দেড় থেকে দু’দিন লাগবে। সেখানেও টিকিট পাবে না। আমরা গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। ১৫-২০ দিন আগে থেকে এটা নিয়ে পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা করেনি। ওদের কাছে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য সময় বেশি রয়েছে। কিন্তু দেশের ভিতরে কী চলছে সেটা দেখার সময় নেই। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। যে মানুষগুলির লোকসান হয়েছে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। যাত্রীরা বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও পরামর্শ দেন তৃণমূলনেত্রী।

Be the first to comment