রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই দুর্ঘটনা। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ১১ জনের। তার মধ্যে একজন মহিলা ও একজন শিশু রয়েছে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্টেডিয়ামের সামনে থাকা ব্যারিকেড ভেঙে দর্শকরা প্রবেশ করতে চাইছিলেন। তার জেরেই এই ঘটনা বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
The mishap in Bengaluru is absolutely heartrending. In this tragic hour, my thoughts are with all those who have lost their loved ones. I pray that those who are injured have a speedy recovery: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) June 4, 2025
নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেছেন তিনি। ১১ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। যদিও মর্মান্তিক এই ঘটনার পরও নির্ধারিত সূচি মেনেই চলছে অনুষ্ঠান। এদিকে, এই ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকেই দুষেছে বিজেপি। শোকপ্রকাশ করে বিসিসিআইয়ের তরফে বলা হয়েছে, কোথাও একটা গাফিলতি অবশ্যই ছিল। তার জেরেই এই ঘটনা।
ঘটনায় আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় একটি হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার মধ্যে ১১ জনের প্রাণ গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও বেশ কয়েকজনের চিকৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকজনকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বেঙ্গালুরু আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দেশের এই আইকনিক স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বুধবার। সেখানেই হাজির হয়েছিলেন অসংখ্য ভক্ত। ভিড়ের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। শেষমেশ স্টেডিয়ামের সামনে থাকা ব্যারিকেড সরিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন ভক্তরা। ঠিক সেই সময় প্রবল হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মৃতদের সম্পর্কে এখনও বিশদে কোনও তথ্য জানায়নি রাজ্য প্রশাসন। সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিড় বাড়তে থাকায় পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জও করেছিল। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর মঙ্গলবার রাতে আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছেন বিরাট কোহলি- রজত পাতিদাররা। এর আগে তিনবার ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বেঙ্গালুরু। এবার পঞ্জাবকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বিরাটদের। আর তার জন্য উদযাপনের ব্যবস্থাও ছিল দেখার মতো। সকালে আমেদাবাদ থেকে বিরাটরা বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন। সেখান থেকে তাঁদের বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিধানসভার অনুষ্ঠান শেষে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আসেন বিরাটরা। তাঁদের দেখতেই প্রবল ভিড় হয়েছিল। ভিড নিয়ন্ত্রণ করতে স্টেডিয়ামের সামনে ব্যারিকেড বসিয়েছিল পুলিশ। সেই ব্যারিকেড ভেঙেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ভিড়। আর তার জেরেই দুর্ঘটনা।
Shocked and saddened by the tragic stampede at Chinnaswamy Stadium in Bengaluru.
My thoughts and prayers are with the families who have lost their loved ones in this unimaginable tragedy.
Wishing strength and a speedy recovery to all those who are injured.
May the departed souls…— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) June 4, 2025
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পদপিষ্টের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিন এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, “বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে মর্মান্তিক পদদলিত হওয়ার ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই অকল্পনীয় ট্র্যাজেডিতে যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা এবং প্রার্থনা। আহত সকলের শক্তি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাদের পরিবার এই কঠিন সময়ে সান্ত্বনা পাক।”
What terrible news from Bengaluru. A moment of joy and celebration has turned into heartbreaking tragedy.
My deepest condolences to the families mourning their loved ones, I cannot imagine how painful this must be. I hope all those who have been injured are getting good care…
— Priyanka Gandhi Vadra (@priyankagandhi) June 4, 2025
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে এক্সে পোস্টে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি লেখেন, “বেঙ্গালুরু থেকে কী ভয়াবহ খবর! আনন্দ ও উদযাপনের এক মুহূর্ত হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। প্রিয়জন হারানো পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা, এটা কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। আমি আশা করি আহতরা সকলেই ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন। পদদলিতের ঘটনা যারা প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের অনেকেই নিশ্চয়ই হতবাক, তাদেরও সমর্থন ও সান্ত্বনার প্রয়োজন হবে। আমি সরকার এবং আমাদের সকল দলীয় কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি।”

Be the first to comment