অনলাইন ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি নিয়ে বিপদ বাড়ছে, এই অমানবিক পেশা বন্ধের পক্ষে জোরাল সওয়াল রাঘব চাড্ডার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে অনলাইন কেনাকাটায় হাত পাকিয়ে ফেলেছে মধ্যবিত্ত সমাজ। এই কেনাকাটার বাজার আরও জনপ্রিয় হয়েছে অনলাইন ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারির দৌলতে। ঘরে বসে হাতে শুধু একটা স্মার্ট ফোন থাকলেই হল, ব্যস যা ইচ্ছে অর্ডার করুন ১০ মিনিটে আপনার ঘরে পৌঁছে দেবে তাঁরা। একেবারে হাতে গরম সার্ভিস। আর কিছু লাগে? ফলে প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে এই পরিষেবার বহর। বাড়ছে সংস্থার সংখ্যা। কত তাড়াতাড়ি গ্রাহকের চাহিদা মেটানো যায়, দেশ জুড়ে চলছে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কিন্তু এবার ভাবার সময় এসেছে। এই পরিষেবা দিন কে দিন যেখানে যাচ্ছে তারপর আর চোখ বুজে থাকা সম্ভব নয়। এই নিয়ে সংসদে সরব হয়েছেন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা। কোনও কোনও মহল থেকে।এরই মধ্যে এই অমানবিক ও বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা বন্ধ করার পক্ষে আওয়াজ উঠেছে।

সেই আওয়াজই এবার পৌঁছে গেল সংসদেও। সৌজন্যে রাঘব। সেখানেও দাবি উঠেছে এই বিপজ্জনক পরিষেবা অবিলম্বে বন্ধ করার। সমস্যাটা হচ্ছে, গ্রাহকরা ইন্সট্যান্ট ডেলিভারিতে উপকৃত হলেও, যারা এই ডেলিভারি করছেন, তাদের কথাও ভাবার সময় এসেছে। জ়্যোমাটো, সুইগি, ব্লিঙ্কিট, জ়েপ্টো, মেশো, ওলা, উবের, অ্যাপ বাইক ও অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কর্মীরা দেশের অর্থনীতির এক অদৃশ্য চালিকাশক্তি। প্রতিটি অর্ডারের নেপথ্যে ওই কর্মীর পরিশ্রম অদৃশ্যই থেকে যায়। বাস্তব বলছে, এদের হাল দিনমজুরদের থেকেও খারাপ। একদিকে যেমন ২৪ ঘন্টাই অস্বাভাবিক গতিতে তাদের ডেলিভারি করতে হয়, তেমনই অসুরক্ষিত পরিবেশে ডেলিভারি চালিয়ে যেতে হয়। কারণ, ডেলিভারি বয়দের মাথার ওপর সব সময় ঝুলছে পেনাল্টি বা জরিমানার খাঁড়া। ফলে রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙা থেকে শুরু করে বেপরোয়া ড্রাইভিং, নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিতেও দু’বার ভাবেন না এই ডেলিভারি বয়রা। কারণ যে কোনও মূল্যে রেটিং তাঁদের চাই। আবহাওয়ায় কী রকম, রাস্তা কীরকম এসবের কোনও পরোয়া নেই তাঁদের। রেটিংয়ের চক্করেই আটকে গোটা ইন্ডাস্ট্রি। এই অমানবিক ও বিপজ্জনক পরিষেবা নিয়ে তাই ভাবার সময় এসেছে, বলেই মনে করেন আপ সাংসদ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*