নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর:
গরমের ছুটি শেষে স্কুলে ফেরার প্রথম দিন। নতুন বই-খাতা, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ আর স্কুলে যাওয়ার উৎসাহ—সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায়। নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ হারাল মাত্র চার বছরের এক স্কুলছাত্রী। গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক শিশু এবং মোটরসাইকেলের চালক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকাজুড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে করে দুই শিশুকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। তারা জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার সময় শান্তিপুরের দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান পিছন দিক থেকে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গর্তে ছিটকে পড়ে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শহীদ ক্ষুদিরাম বিদ্যালয়ের চার বছরের শিক্ষার্থী রাজশ্রী বিশ্বাসের। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় মোটরসাইকেল চালক এবং অপর শিশুটিকে প্রথমে কৃষ্ণনগরের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আহত শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মোটরসাইকেল চালকের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটজনক।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কের ওই অংশে দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্ভিস রোডের অভাবের কারণেই বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, স্কুলপড়ুয়া শিশু, পথচারী এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে হয়। বহুবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানানো হলেও বাস্তবে তার কোনও কার্যকর ফল মেলেনি। এই ঘটনার পর ফের সুরক্ষিত সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত পিকআপ ভ্যানটি আটক করেছে। পাশাপাশি গাড়ির চালক ও খালাসিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটল এবং গাড়িটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
একটি পরিবারের কাছে সোমবার সকালটি ছিল সন্তানের স্কুলে ফেরার আনন্দের দিন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সেই আনন্দ পরিণত হয় অপূরণীয় শোকে। গরমের ছুটি শেষে স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনই যে ছোট্ট রাজশ্রীর জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ কৃষ্ণনগর তথা গোটা নদিয়া জেলা।

Be the first to comment