রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর, নদীয়া :
আজ থেকে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ ময়দানে শুরু হলো দ্বিতীয় আঞ্চলিক সৃষ্টিশ্রী মেলা ২০২৫–২৬। আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই মেলা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ-এর উদ্যোগে এবং নদীয়া জেলা প্রশাসন ও নদীয়া জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখা-র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলা গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও হস্তশিল্পীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিপণন ও সংযোগের মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
মেলা প্রাঙ্গণে এবছর ব্যাপক আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। মোট ১৯৪ জন বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেছেন ১৫টি প্রশস্ত স্টলে। এর পাশাপাশি ৩৭ জন বিক্রেতা থাকছেন উন্মুক্ত স্থানে। ৫টি স্টলে থাকছে বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রদর্শনী। ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ—১৫টি খাদ্য স্টলে ৫০ জন বিক্রেতা রকমারি সুস্বাদু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে হাজির।
এই সৃষ্টিশ্রী মেলার মূল লক্ষ্য নারী-ক্ষমতায়ন। গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সদস্য এবং হস্তশিল্পীদের তৈরি পণ্যের বিপণনের মাধ্যমে তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু। মেলায় নদীয়া জেলার বিখ্যাত তাঁত ও কাঁসা শিল্প-এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্প, পোড়ামাটির কাজ, হস্তনির্মিত অলংকার, পাটজাত নান্দনিক সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। বৃহৎ পরিসরে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো আলোচনা সভা ও কর্মশালা। প্রতিদিন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের জন্য সেমিনার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকরণ ও উন্নয়নমূলক আলোচনা, ক্রেতা-বিক্রেতা সমন্বয় সভা এবং ডিজিটাল বিপণন সংক্রান্ত কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বাজার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কর্মশালার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সন্ধ্যা হলেই মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। বিশিষ্ট শিল্পী ও লোকশিল্পীদের পরিবেশনায় প্রতিদিনই থাকছে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান। খাদ্য মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে পিঠে-পুলি, খাঁটি মধু, ঘি এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা স্বাদের খাবার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, সাংসদ মহুয়া মৈত্র, জেলা শাসক অনীশ দাসগুপ্ত, জেলা সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর-সহ জেলার একাধিক সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এক বিশেষ আকর্ষণ ছিল একটি শঙ্খের উন্মোচন, যা উপস্থিত সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দ্বারা সম্পন্ন হয়।
সার্বিকভাবে, দ্বিতীয় আঞ্চলিক সৃষ্টিশ্রী মেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক মেলা নয়—এটি গ্রামীণ নারীদের দক্ষতা, পরিশ্রম ও স্বপ্নকে সামনে আনার এক শক্তিশালী মঞ্চ, যা নদীয়া জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Be the first to comment