রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- নাগরিক সুবিধার্থে কথা ভেবে বড় ঘোষণা কলকাতা পুরসভার। এবার থেকে ঠিকা, বস্তি, কলোনিতে মাত্র ৭ ছটাক অর্থাৎ ৩০০ স্কোয়রফিট জায়গায় বাড়ি করতে আর অসুবিধা হবে না নগরবাসীর। নামমাত্র ছাড়ে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তিন তলা বাড়ি নির্মাণ করার অনুমোদন দেবে কলকাতা পুরসভা। পাশাপাশি বেআইনি বাড়ি নির্মাণের জন্য রেগুলারিজেশন ফিও কমিয়ে দেওয়া হয়।
এদিন মেয়র বলেন, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ৩০০ স্কোয়ার ফুট থেকে ৩ কাঠা জমি পর্যন্ত ৩ তোলা বাড়ি নির্মাণ করার অনুমোদন দেবে কলকাতা পুরসভা। তবে এগুলি ঠিকা, বস্তি, ও কলোনি এলাকার জন্যই প্রযোজ্য করা হবে।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন ” মেয়র পরিষদ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।” তাঁর কথায়, ‘এবার থেকে মাত্র ৭ ছটাক অর্থাৎ ৩০০ স্কোয়ারফিট থেকে ১০ ছটাক অর্থাৎ ৪৫০ স্কোয়ারফিট পর্যন্ত জায়গায় তিন তলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণ করতে অনুমোদন দেবে কলকাতা পুরসভা। সেক্ষেত্রে বাড়ির সামনে এবং দুপাশে ১ ফুট করে, এবং বাড়ির পিছনে ৩ ফুট জমি ছাড় দিলেই হবে।” তাঁর কথায়, ১১ছটাক অর্থাৎ ৫০০ স্কোয়ারফুট থেকে ১ কাঠা পর্যন্ত জায়গায় তিন তলা বাড়ি নির্মান করার জন্য সামনে দেড় ফুট, বাড়ি দুই পাশে ২ ফুট করে, আর বাড়ির পিছনে ৪ ফুট জায়গা ছাড়তে হবে। ১ কাঠা থেকে ২ কাঠা জায়গার উপর বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ৩ তলা বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হবে সেক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে সামনের দিকে ১.৫ ফুট। বাড়ির একদিকে ২ এবং অপর দিকে ৩ ফুট জমির ছাড় দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট জমির পিছনের দিকে ৪ ফুট ছাড় দিলেই হবে। ” তিনি আরও জানান, এতদিন আমরা কলকাতা পুরসভায় মেয়র পরিষদ বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতাম। এবার বরো অফিস থেকে মিলবে অনুমতি।
অন্যদিকে, রেগুলারাইজেশনে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বস্তি, ঠিকা এবং কলোনি এলাকায় যারা ইতিমধ্যে ৩ কাঠার মধ্যে বাড়ি তৈরি করে ফেলেছেন, সেই বাড়িগুলো আইনি করতে এতদিন কলকাতা পুরসভাকে ৩ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা দিতে হতো। (আনুমানিক একটি তিনতলা বাড়ির ক্ষেত্রে)। কিন্তু মেয়র পরিষদ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, সেই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে আনা হলো মাত্র ৪২ হাজার টাকাতে। অর্থাৎ ২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা কমে গেল। বস্তি বা ঠিকা বা কলোনী এলাকায় ৩ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা দেওয়ার মত অনেকে সামর্থ্য নেই। সে কারণেই এই অর্থ কমিয়ে দেওয়া হলো বলে জানিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে বাধ্যতামূলকভাবে স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি রিপোর্ট বা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের রিপোর্ট সঙ্গে জমা দিয়ে রেগুলাইজেশন করতে হবে। কোনভাবেই সেই বাড়ি বাণিজ্যিক হওয়া চলবে না। প্রমোটিং ফ্ল্যাটকে অনুমতি নয়। এক্ষেত্রে বাড়ির মালিককে আবেদন করতে হবে। কেউ আইনের বাইরে গিয়ে বানিজ্যিক বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে অনুমতি চাইতে গেলে কলকাতা পুরসভা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এছাড়াও, নির্মীয়মান বাড়ি তৈরীর ক্ষেত্রে বাড়ির ওপরে ৬ ফুট/ ৩ ফুট হোডিং লাগাতেই হবে। যেখানে এল বি এস বা আর্কিটেক্ট এর নাম, কত বর্গফুট এলাকায় তৈরি হচ্ছে, কত তলা এবং নির্মাণ নকশার নম্বর উল্লেখ রাখতে হবে। যদি এগুলি উল্লেখ না রাখা হয় তাহলে গোটা নির্মাণকেই অবৈধ বলে কলকাতা পুরসভা বিবেচনা করবে। কলকাতা পুরসভার অধীনস্থ প্রতিটি জায়গায় এই নিয়ম লাগু হবে। এবং, ২০ হাজার বর্গমিটারের উপরে যে নির্মাণ হবে, সেখানকার ডিসপ্লে বোর্ডে আলাদা করে পলিউশন ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সম্পর্কিত তথ্য অবশ্যই জানাতে হবে।

Be the first to comment