ইন্টারনেট থেকে শিখে শাশুড়িকে খুন!!

Spread the love

সুস্মিতা রায় :
ইন্টারনেট থেকে খুন করার পদ্ধতি জানতে চেয়েছিলেন এক মহিলা। তা জেনে শাশুড়িকে খুন করলেন তিনি। হাড় হিম এই হত্যাকান্ড হয়েছে বিশাখাপত্তনমের এক আবাসনে। অভিযুক্ত পুত্রবধূ ললিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, রীতিমত পরিকল্পনা করে শাশুড়িকে খুন করেন তিনি। গত শুক্রবার ওই আবাসন থেকে বর্ষীয়ান জয়ন্তী কনক মহালক্ষীর (৬৬) অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে দগ্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্ত সন্দেহবশত পুলিশ পুত্রবধূ ললিতার ফোন খুঁজে দেখে কিভাবে বয়স্ক মহিলাকে খুন করা যায়, ইন্টারনেটে তা খুঁজেছেন তিনি। এরপর টানা জেরায় তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। এই সূত্রে প্রকাশ, স্বামী অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর সন্তানদের ঠাকুমার সঙ্গে কানামাছি খেলতে বলে ললিতা। বাচ্চারা ঘরের বাইরে যেতে শাশুড়িকে চেয়ারে বসিয়ে চোখ মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেন। ললিতার মাও ওই বাড়িতে তখন ছিলেন। তিনি স্নানে যেতেই এই সব করেন ললিতা। আগের দিনই সবাইকে লুকিয়ে পেট্রল এনেছিলেন। তা শাশুড়ি র গায়ে ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। তাঁর চিৎকার যাতে বাইরে না যায়, টিভি র আওয়াজ ও বাড়িয়ে দেন। আগুন টের পেতেই আতংকিত জয়ন্তী কনক চিৎকার করে ঠাকুর ঘরের দিকে ছুটে যান। সেখানে তাঁর নাতনির ও হাত পা কিছুটা পুড়ে যায়। সন্তানদের ললিতা বলেন, টিভি-র তার লেগে ঠাকুমা পুড়ে গেছেন। ঘরে তুমুল হৈচৈ শুনে ললিতার মা স্নানঘর থেকে বেরিয়ে হতবাক হয়ে যান। অভিযোগ, উলটো দিকের বাড়ির এক এসি মেরামতকারী সাহায্য করতে এলে ললিতা তাঁকে সরিয়ে দেন। এই সব নানা ঘটনায় পুলিশের সন্দেহ হয়। শেষে ললিতা স্বীকার করেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি তাঁকে নির্যাতন করতেন। তাঁকে পছন্দ করতেন না, স্বামীকে তাঁর বিরুদ্ধে নালিশ করতেন। দিনের পর দিন এই সব সহ্য করতে না পেরে তিনি এই কাজ করেন।
যা শুনে পুলিশও হতবাক। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। পুলিশ অভিযুক্ত ললিতাকে গ্রেফতার করে আরও তদন্ত করছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*