রোজদিন ডেস্ক :
সারা দেশে বকরি ইদ পালনের মাত্র তিন দিন বাকি। ইতিমধ্যে মুসলমানদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন গরু-কে জাতীয় পশু ঘোষণা করে গোহত্যা নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। বিশেষত উত্তর প্রদেশের একাধিক মুসলিম সংগঠন এই দাবি তোলায় বিড়ম্বিত কেন্দ্রও। গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা, গো হত্যা বন্ধের দাবির পাশে বিদেশে গোমাংস রফতানি বন্ধের দাবিও উঠেছে। গরুর কর্মক্ষমতা ফুরোলে অবোলা এই জীবদের রাস্তা ঘাটে ছেড়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও দাবি করেছে অনেক সংগঠন।
এই সব নিয়ে কেন্দ্রের কোর্টে বল ঠেলেছেন এই সব সংগঠনের শীর্ষ নেতারা৷ সঙ্গে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের সহ সভাপতি কৌসর হায়াত খান মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি শাসিত গোয়া, অসম ও উত্তর পূর্বের বহু রাজ্যে এখনও গোমাংস খাওয়ার কোন বাধা নেই৷
কিন্তু উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও অতি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে গোহত্যা নিয়ে ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
গরু কে নিয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় আবেগের কথা মাথায় রেখে যে সব সংগঠন তাকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিয়ে গোহত্যা বন্ধের প্রস্তাব করেছে,এর মধ্যে জামিয়াত উলেমাই হিন্দের (আরশাদ মাদানি গোষ্ঠী) সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মৌলানা শাহাবুদ্দিন রিজভি, সর্ব ভারতীয় কুরেশি জামাতের সভাপতি সিরাজ কুরেশি সহ আরও একাধিক বিশিষ্ট মুসলিম সংগঠনগুলির নেতারা আছেন। তাঁরা সকলেই এই বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রকে স্মারকলিপি দিতে চান৷ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও এই সব নিয়ে কথা বলতে চান।
এই প্রস্তাব রূপায়িত হলে গো হত্যার অভিযোগ তুলে নিরীহ মুসলমানদের আক্রান্ত, নিহত হতে হবে না বলে তাঁরা মনে করেন।
আগামী বছর উত্তর প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুসলিম সংগঠনগুলির এই ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন।

Be the first to comment