রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– বুধবার সাতগাছিয়ায় নিজের লোকসভা কেন্দ্রে ‘নিঃশব্দ বিপ্লবে’ কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, বই প্রকাশের পাশাপাশি বিরোধীদের একাধিক মন্তব্যের জবাব দেন তিনি।

দীঘায় তৈরী জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বাংলা রাজনীতির সরগরম এই মুহূর্তে। বারবারই বিভিন্ন অভিযোগ করে বিদ্রুপ করেছে সুকান্ত, শুভেন্দু সহ বিরোধী নেতারা। এদিন সাতগাছিয়া থেকে সেবিষয়েও জবাব দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তিনি বলেন, ‘আজ জগন্নাথ মন্দিরকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতে গিয়ে শুভেন্দু বলছে ওটা মন্দির নয়। সুকান্ত মজুমদার বলছেন ওইটা সার্কাস। যাঁরা হিন্দুদের রক্ষা কর্তা বলে তারাই এইসব বলে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই এই মন্দির না তৈরি করলে আপনারা আসল চেহারা দেখতে পেতেন না। মমতার সরকারের থেকে ইউনুসের সরকার ভাল বলে। আর এরাই আবার আমাদের বাংলাদেশি বলে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে পুলওয়ামার সময় আমাদের দেশবিরোধী বলত। বাংলায় কথা বললে বলত বাংলাদেশি, পাগড়ি পরলে খালিস্তানি। বিজেপির দিল্লি নেতাদের খুশি করতে বাংলার কুসন্তান নিজের মেরুদন্ড বিকিয়েছে। জবাবও পেয়েছেন। এক সময় যাঁরা আমাদের দেশ বিরোধী বলত, আজ সর্বদলীয় বৈঠকে যখন সব দল বিদেশে গেল, সেখানে আমার দলও সদস্য করে আমায় পাঠায়। সেখানে গিয়ে আমি দেশের কথা বলেছি। আমরা যখন দেশের কথা বলছি, প্রধানমন্ত্রী তখন বৈষম্য রাজনীতি করছে। দেশ বিরোধী কারা? আমি বলেছি POKদখল করা উচিত। ওদের ক্ষমতা আছে বলবে?’
এদিন তিনি বলেন, ‘আমি একটা চিঠি দেখাব। আমি কেন ডায়মন্ড হারবারের ৭৬ হাজারের প্রবীণ নাগরিক শ্রদ্ধার্ঘ দিয়েছি বিজেপির ইনকাম ট্যাক্স চিঠি দিয়েছে। আমি কেন দিয়েছি বার্ধক্য় ভাতা দিয়েছি? আসতে ওরা চাইছে যাতে এটা বন্ধ হয়ে যায়। একটা নয়, দুটো চিঠি পাঠিয়েছে। পঞ্চাশ দিনের ব্যবধানে দুটো চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ গরিব মানুষের হাতে অর্থ তুলে দিকে সক্ষম হয়েছি।’
চাকরী দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘হতে পারে কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছে বা দিয়েছে। দুজন সমান দোষী। কয়েকজনের জন্য পুরো প্যানেল বাতিল। দিল্লি কোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত বর্মার বাড়ি আগুন লেগেছে। দমকল দেখছে বাড়ি ভর্তি টাকা। একজন বিচারপতি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে গোটা বিচার ব্যবস্থা দুর্নীতি গ্রস্ত? তা তো নয়। কয়েকজন যদি দুর্নীতি করে চাকরি পায়, তাহলে ২৬ হাজারের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে পারেন না। একজন বিধায়ক, একজন সাংসদ ভুল করলে পুরোটা তুলে দেবে?’

Be the first to comment