রোজদিন ডেস্ক : মঙ্গলবার জোড়াসাকোঁর মঞ্চ থেকে দিল্লি গিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, এসআইআর ঘোষণা করার পর সাতদিনে সাতজন সহ নাগরিককে হারিয়েছি। তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। মাত্র দুদিনে এই মিছিল করেছি। দুদিনের ব্যবধানে যদি আমরা এত বড় মিছিল করতে পারি, আগামী ২ মাসের মধ্যে দিল্লিতে গিয়েও মিছিল করতে পারে তৃণমূল। আমাদের ধমকে-চমকে ভাষণ দিয়ে কোনও লাভ নেই। যদি মাত্র দুই দিনের প্রস্তুতিতে আমরা এটা করতে পারি, ভাবুন দু’মাসে দিল্লিতে আমরা কী করতে পারি?

আমরা যখন নব জোয়ার করেছিলাম, তখন বলেছিলাম আমরা নিজেদের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করব বা দিল্লি থেকে বকেয়া টাকা নিয়ে আসব। বাংলার জনপ্রতিনিধিরা তপশিলি জাতি ও উপজাতি ২০২৩-এর অক্টোবর মাসে অমিত শাহের দিল্লি পুলিশের হেনস্থা সহ্য করেছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বাংলার শক্তি ও ক্ষমতা দেখাবো। আমরা জনগণের আশীর্বাদ নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম। একপাশে ছিল ১০ কোটি বাঙালির ইচ্ছা। অন্যপাশে ছিল কেন্দ্রের ইডি, সিবিআই, মন্ত্রীরা, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট ও বিচার ব্যবস্থার একাংশ, সংবাদ মাধ্যমের একাংশ, আয়কর অফিস, নির্বাচন কমিশন ও আধাসামরিক বাহিনী, তারা সকলেই হেরে গিশেছে। বাংলার মানুষ জয়ী হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে ১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে হবে। ওরা যখন এসআইআর নোটিফিকেশন জারি করল, আমরা বলেছিলাম যদি একজন বৈধ ভোটারেরও নাম মুছে ফেলা হয়, বাংলার ক্ষমতা দিল্লির মাটিতে জমিদারদের দেখাব। যারা আত্মহত্যা করেছে সাতজন—তাদের সকলের নাম ভোটার তালিকায় ছিল এবং পরে কেটে ফেলা হয়। যখন ইচ্ছে, কাউকে ‘বাঙালি’ বলে টার্গেট করে বিতাড়িত করা হয়। এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও তাঁর পরিবারকেও তাড়ানো হয়েছিল, যদিও হাইকোর্টই নির্দেশ দিয়েছিল যে তাঁর বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ও খসড়া তালিকায় আছে। তাদের বাংলাদেশি বলে দেশছাড়া করা হয়। বাংলা এর জবাব দেবে। আগামীকাল তৃণমূল এসআইআরের বিরুদ্ধে দিল্লিতে প্রতিবাদ করবে এবং সমগ্র দেশের সামনে বাংলার ক্ষমতা দেখাবে। দিল্লিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। আমি বাংলার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রণাম জানাই।

২০২১, ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২৪ সালে বিজেপি বাংলায় হেরেছে। হাত তুলে বলুন: আপনারা সকলে দিল্লিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন তো? আমার মতুয়া ভাইরা, আপনারা দিল্লিতে যাবেন তো? হাত তুলে বলুন। বাংলার ক্ষমতা কী, আমরা দেখাব। আপনারা কি বিজেপিকে জবাব দিতে প্রস্তুত? ২০১৯ সালে ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন—আমরা কখনও এনআরসি মেনে নেব না। অমিত শাহ বা বিজেপি তা চাপাতে পেরেছে কি? বিজেপি যেভাবে এসআইআর চাপাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দু’মাসের মধ্যে দিল্লিতে কীভাবে প্রতিবাদ করে দেখাবে।

Be the first to comment