নরেন্দ্র মোদি দুর্নীতিগ্রস্ত কিন্তু বাংলায় দুর্নীতির সব রেকর্ড ভেঙেছে তৃণমূল কংগ্রেস : রাহুল গান্ধী

Spread the love

পিয়ালী: 

মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল। ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাহুল গান্ধীর সভা। রায়গঞ্জ ও মালদা সেরে তৃতীয় ও শেষ সভা, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে। মুর্শিদাবাদের সভায় প্রত্যাশিতভাবেই তার পাশে ছিলেন বহরমপুর বিধানসভায় কংগ্রেস ভোট প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অধীর চৌধুরী বলেন, নরেন্দ্র মোদিকে হটানো সম্ভব একমাত্র রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে। তিনি স্লোগান দেন, পরিবর্তনের আঁধি /রাহুল গান্ধী। বাংলা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে সরাতে বা খতম করতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, বলেন অধীর। এরপর বলতে আসেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

রাহুলও তাঁর বক্তব্যে বিজেপিকে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসকেও বিভিন্ন ইস্যুতে কঠোর সমালোচনা করেন। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে রাহুলের বক্তব্য আমরা পয়েন্ট আকারে পরপর উল্লেখ করব।

রাহুল বলেন, কংগ্রেসের বিচারধারা হলো একতা, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, অন্যদিকে বিজেপি ও আরএসএস ঘৃণা হিংসা লড়াই ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ করে।

বাংলায় বিজেপি ও আরএসএসের লোকেরা ইলেকশান কমিশনের সঙ্গে মিলে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম এসআইআর করে বাদ দিয়েছেন। আমরা পরবর্তীতে প্রত্যেকের নাম লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করব।

রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদির রিমোট কন্ট্রোল ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। মোদি নিজেকে দেশভক্ত ভাবেন, কিন্তু ওনার চেহারা দেখেছেন? রাহুল বলেন, উনি আমার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন না।

এপস্টিন ফাইল, আদানিকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে যথেচ্ছ ব্যবসা করতে দেওয়া ইত্যাদি নানা অভিযোগ আনেন তিনি নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে।

রাহুল বলেন কৃষি ক্ষেত্রে আমেরিকার কাছে দেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন মোদি।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও মেডিকেল ডেটা নরেন্দ্র মোদী আমেরিকার হাতে দিয়ে দিয়েছেন।

ভারতের এনার্জি সিকিউরিটি ছিনিয়ে নিয়ে আমেরিকাকে বিক্রি করে দিয়েছেন মোদি। পেট্রোল গ্যাস কেরোসিন ডিজেলের দাম যে কোন মুহূর্তেই ঊর্ধ্বমুখী হবে।

নরেন্দ্র মোদী যেমন দেশে এসআইআর ভোট চুরি বেকারত্ব ঘৃণা হিংসার বাতাবরণ সৃষ্টি করেছেন, তেমনি বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস নিজের দায়িত্ব পালন করছে না।

তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির জন্য রাস্তা তৈরি করছে।

ঘৃণা, হিংসা, শিল্প কারখানা বন্ধ, বেকারত্বের নাম্বার ওয়ান, এইতো বাংলার চিত্র, বলেন রাহুল।

নরেন্দ্র মোদী যেমন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী তেমনি বাংলায় দুর্নীতি যেন সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই ভাবেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি।

সারদা ও রোজভ্যালি কাণ্ডের কথা উল্লেখ করে দুর্নীতি অস্ত্রে শান দিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন রাহুল।

এর পাশাপাশি ইললিগ্যাল মাইনিং, গুন্ডারাজ, সিন্ডিকেট রাজ প্রভৃতির উল্লেখ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন রাহুল।

রাহুল বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কোন গুন্ডা বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোন নেতা না হলে রাজ্যে কোনো কাজ হয় না। সাধারণ মানুষ বাংলায় কোন কাজ করতে পারেন না সিন্ডিকেট বা গুন্ডাদের ছাড়া।

একদিকে সীমাহীন দুর্নীতি বেকারত্ব অন্যদিকে তৃণমূল দলের কাছে সব টাকা চলে যায়। রাহুল বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সিন্ডিকেট বাংলাকে চালায়। এটাই বাংলায় সত্য।

২০২১-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচ লক্ষ নতুন চাকরির কথা বলেছিলেন, অথচ ২০২৬-এ ৮৪ লক্ষ যুবক ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। এই তো হলো বাংলার অবস্থা।

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকতার চাকরি বিক্রি হয় এসএসসির রিক্রুটমেন্ট এ দুর্নীতি হয়, কলকারখানা বন্ধ।

মহিলাদের ওপর অত্যাচার হয়। রাহুল গান্ধী আরজি কর প্রসঙ্গ টেনে বলেন এখানে ধর্ষণ এবং খুন হয়েছিল এবং অপরাধীদের রক্ষা করার জন্য সাহায্য করা হয়েছে।

রাজনৈতিক হিংসা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন তপন কান্দু কে পুরুলিয়ায় মারা হয়। আমাদের অনেক কার্যকর্তাকে এইভাবে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হতে হয়েছে, তৃণমূলের আমলে।

এরপর তাদের ইসতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে রাহুল বলেন, আমরা আমাদের কথা রাখি কর্মসংস্থান যুবকদের জন্য চাকরি মহিলাদের পাশে দাঁড়ানো এগুলি আমরা অবশ্যই পূরণ করব।

রাহুল বার্তা দেন যে বিজেপিকে হারাতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেস নয়। কংগ্রেসের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে হবে। কারণ বিজেপি জানে তৃণমূল কংগ্রেস ওদের দেশে হারাতে পারবে না। একমাত্র কংগ্রেসই পারে বিজেপিকে সারা দেশ থেকে হটাতে।

রাহুল তাঁর বক্তৃতায় মনে করিয়ে দেন চার হাজার কিলোমিটার কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী ভারত জোড়ো যাত্রার কথা। তিনি আবারো বলেন আমি নাফরাত কে দুনিয়া মে মহব্বত কি দোকান খুলবো।

এইভাবে তিনটি জনসভাতেই রাহুল গান্ধী যেমন বিজেপিকে তীক্ষ্ণ ভাষায় স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে আক্রমণ করেন তেমনি তৃণমূল কংগ্রেসকেও এক হাত নেন। কিছুদিন আগে কলকাতায় কংগ্রেসের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে জয়রাম রামেশ বলেছিলেন তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। মল্লিকার্জুন খড়গেও তৃতীয় পথের কথা বললেও খানিকটা রক্ষণাত্মক ভাবে বলেছিলেন রাজ্যে আমাদের ইন্ডিয়ার জোটের শরিকের ভেতর বিরোধীতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে আমরা এক। কিন্তু ভোটমুখী বাংলায় রাহুল গান্ধী বিজেপি এবং তৃণমূল কাউকেই ছেড়ে কথা বললেন না।

 

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*