শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি কে আক্রমণ, নিন্দা কংগ্রেস, সিপিএমের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইকে জুতো ছুঁড়ে মারার চেষ্টার তীব্র নিন্দা করলো কংগ্রেস, সিপিআইএম। এই ঘটনা শুধু প্রধান বিচারপতি কে না, দেশের বিচার ব্যবস্থার মর্যাদার ওপর আঘাত বলে তাঁরা মনে করেন।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সিপিআইএম এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি পৃথক ভাবে এই কথা বলেন।
আজ শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইকে লক্ষ্য করে জনৈক হিন্দুত্ববাদী জুতো ছোঁড়ার চেষ্টার ঘটনায় দেশ জুড়ে উদবেগ, বিস্ময় দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন,সমগ্র বিচার ব্যবস্থাকে আঘাত করেছে এই ঘটনা। সংবিধানের মর্যাদা নষ্ট করেছে। এই দেশে এমন ঘৃণার কোন জায়গা নেই। সবার এর নিন্দা করা উচিত।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক, দুর্ভাগ্যজনক ও চিন্তাজনক ঘটনা। এটি শুধু দেশের প্রধান বিচারপতিকেই নয়, দেশের সংবিধান, সম্পুর্ন ন্যায় বিচার ব্যবস্থার ওপরই আঘাত করেছে।
সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও বলেন,শুধু প্রধান বিচারপতি না, সমগ্র বিচার ব্যবস্থার ওপরই এই আক্রমণ। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের ছড়ানো সাম্প্রদায়িকতা ও জাতি বিদ্বেষের বিষ কিভাবে সমাজকে কলুষিত করছে। প্রধান বিচারপতি একজন দলিতও, এই কথা জানিয়ে বেবি বলেন, এই মনুবাদী মানসিকতাকে প্রতিহত, পরাজিত করতে হবে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন উদবেগ ব্যক্ত করে বলেন, সংঘ পরিবার যে ঘৃণা ছড়ায়, এটি তারই প্রতিফলন।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযুক্ত আইনজীবির অনুমোদন বাতিলের দাবি করেন। কোন ব্যক্তি বিশেষের অপকর্ম শুধু না, সংঘ পরিবারের ঘৃণা ভাষণের ফলাফল।
প্রবীণ এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারও একে সংবিধানের ওপর আঘাত বলে উদবেগ ব্যক্ত করেন।

কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে এর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে বলেন, দেশের এই অবস্থার জন্য উনিই দায়ী। দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দায়িত্ব শীর্ষ আদালতের। এই ঘটনা গণতন্ত্র ও সংবিধানের ওপর আক্রমণ।
কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীও তীব্র নিন্দায় মুখর হন।
অন্য সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, শীর্ষ আদালতের পক্ষে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সনাতন ধর্মের অপমান সহ্য করা হবে না বলে ওই ব্যক্তি চিৎকার করছিলেন। তিনি কট্টর হিন্দুত্ববাদী বলে অনুমান।
প্রধান বিচারপতি অবশ্য এই ঘটনায় বিচলিত না হয়ে আদালতের কাজ চালিয়ে গেছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*