রোজদিন ডেস্ক : দেশব্যাপী বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে, বহুত্ববাদের পক্ষে, আগামী ২০ ডিসেম্বর কলকাতায় সহস্র কন্ঠে সংবিধান পাঠের কর্মসূচি নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।
রাজ্য সভাপতি শুভংকর সরকার আজ এই খবর জানিয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিসরে এক বিপজ্জনক আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। উদ্বিগ্ন ভাবে তিনি বলেন, যেভাবে ভাষা, পোশাক, খাদ্য ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। আরএসএস, বিজেপিকে বিঁধে তিনি বলেন, খোদ রাষ্ট্রশক্তির মদতে বি আর আম্বেদকর প্রণীত বিশ্ব শ্রেষ্ঠ সংবিধান এখন পদদলিত। যাঁরা মনুবাদ, বিভাজনের দর্শন, সঙ্কীর্ণতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, যেসব মণীষীরা সৌভ্রাতৃত্বের বাণী, মানবতার জয়গান গেয়েছেন, আরএসএস তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁদের সমানে অপমান, অনজ্ঞা করে চলেছে। নাম না করে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসককে ঠুকে শুভংকর সরকার বলেন, গীতা পাঠের বদলে চন্ডীপাঠ, রামমন্দিরের বদলে জগন্নাথ মন্দির এখন সঙ্কীর্ণ রাজনীতির মানদণ্ড হয়ে উঠেছে, তাঁরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। কিছুটা আবেগের সঙ্গে বলেন, শ্রীচৈতন্য, রবীন্দ্রনাথ নজরুল, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ, যিনি যত মত তত পথের ধারা এখানে রোপণ করে গেছেন, সেখানে বহুত্ববাদ প্রতি মুহূর্তে পদদলিত হচ্ছে। এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই তাঁদের এই সহস্র কণ্ঠে সংবিধান পাঠের কর্মসূচি।
দলের নেতা কর্মীরা সেদিন পথে নেমে, আমজনতার সঙ্গে গলা মিলিয়ে সংবিধান পাঠ করবেন ও শপথ নেবেন।
শুভংকর সরকার আরও জানান, রাজ্যে একশো দিনের কাজ, নতুন জব কার্ড আটকে রাখা ইত্যাদির প্রতিবাদে আগামী ২২ -২৪ ডিসেম্বর তাঁরা রাজভবন ঘেরাও কর্মসূচি নেবেন। কবে এই কর্মসূচি পালিত হবে শীঘ্র ঘোষণা করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মিতা চক্রবর্তী, আশুতোষ চ্যাটার্জি, সুমন রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment