রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- টাকা নিয়ে গ্রামে বালি-পাথর বোঝাই ভারী ট্রাক ঢোকাচ্ছে পুলিশ। বুধবার শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে ডিজি রাজীব কুমারকে কড়া ধমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বারবার বলা সত্ত্বেও কেন গ্রামীণ রাস্তায় ভারী ট্রাক ঢুকছে?”
গতকাল তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন। এদিন জলপাইগুড়িতে উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠকে গ্রামের রাস্তায় ভারী ট্রাক ঢোকানোর অভিযোগ জানান কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বাসুনিয়া।অভিযোগ শোনা মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠকেই পুলিশকে রীতিমতো বকুনি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বাসুনিয়া বলেন, “আমি জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় ঘুরেছি। সেখানে একদিকে রাজ্য সরকার নতুন রাস্তা তৈরি করছে। অন্যদিকে পুরনো রাস্তাগুলি ভেঙে যাচ্ছে। ভারী ট্রাক গ্রামের রাস্তায় ঢুকে রাস্তা নষ্ট করে দিচ্ছে। কেউ দেখছে না।”
এই অভিযোগ শোনা মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি বারবার বলেছি গ্রামের রাস্তায় কোনও লোডেড ট্রাক যাবে না। কেন পুলিশ এটা দেখছে না?” এরপরই রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “রাজীব, আমি এক কথা কতবার বলব? কতবার বলতে হবে? বারবার আইসি, এসপি আর ডিএমদের বলা হচ্ছে। কেউ টাকা খেয়ে গ্রামের রাস্তায় ট্রাক ঢোকাবেন না।”
তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, “টাকা নেই, তাও আমরা সব করে যাচ্ছি। ট্রাক ঢুকে সব রাস্তা ভেঙে দিচ্ছে। কতবার বলব একই কথা? কোনও অভিযোগ থাকলে আমার কাছে পাঠান। কিছুতেই কথা শোনে না এরা। এটা তো ডিজি মনিটর করবে, দেখবে। বলতে বলতে আমার জিভটাই ক্ষয়ে গেল। সব জেলায় একই সমস্যা। প্রত্যেক জেলায় একই চলছে। এসব বন্ধ করতে হবে।”
পাশাপাশি, পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে ‘গ্রুপবাজি’র অভিযোগে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কোচবিহারের ডেপুটি পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) চন্দন দাসকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (চন্দন দাস) হেডকোয়ার্টার দেখে। অথচ তাঁকে কোন কাজ দাও না। তোমরা নিজেদের মধ্যেই গ্রুপ তৈরি করে নিচ্ছ! ওঁনাকে কাজে লাগাবে। দিনহাটা, শীতলকুচি, বর্ডার এরিয়ায় ওঁনাকে কাজে লাগাও।’

Be the first to comment