বন্দেমাতরম, কংগ্রেসকে আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : বাংলার অমর কথা সাহিত্যিক বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জির বন্দেমাতরম নিয়ে আজ রাজনৈতিক উত্তাপে তেতে উঠলো সংসদ৷ বন্দেমাতরম এর দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ সংসদে আলোচনা হয়। এর সূচনা করে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। টেনে আনেন স্বাধীনতা পূর্বকালের ইতিহাস। অভিযোগ করেন, মুসলিমদের তোষণ করতে বন্দেমাতরম এর বেশ কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়। এই মর্মে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন এই গানের কিছু অংশ মুসলমানদের প্ররোচিত করতে পারে। আজ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বন্দেমাতরম-এর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
কংগ্রেসকে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস বন্দেমাতরম নিয়ে আপোষ করেছে। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিয়েছে। আজ লোকসভায় সেই অংশ পড়ে শোনান তিনি। কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, প্রথমে এই গানকে ভাঙা হয়েছে, তারপর দেশও ভাগ করেছে। সামাজিক সংহতি রক্ষার নামে তোষণের রাজনীতি হয়েছে। সেই তোষণের রাজনীতি কংগ্রেস এখনও করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সব অভিযোগের বিরুদ্ধে সুর চড়ান কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগই, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রমুখ। বন্দে মাতরম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। সমাজবাদী সাংসদ অখিলেশ যাদবও প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে বলেন, যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশই নেয়নি, তারাই আজ বন্দেমাতরম নিয়ে সুর চড়াচ্ছে!!
প্রধানমন্ত্রী আজ আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধীও বন্দেমাতরমকে জাতীয় সংগীত করতে চেয়েছিলেন। জিন্না আপত্তি করায় কংগ্রেস তাও করতে দেয়নি। বন্দেমাতরম-এর শতবর্ষর বছরে ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল বলেও কংগ্রেসকে আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, ওই সময় গণতন্ত্রর শ্বাসরোধ করা হয়েছিল।
ব্রিটিশের দমন পীড়নের বিরুদ্ধে বন্দেমাতরম পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে ঐক্য রক্ষা করেছিল।
দেশের ইতিহাসে জরুরি অবস্থা এক অন্ধকার কালো অধ্যায় ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁরা বন্দেমাতরম এর গরিমা ফিরিয়ে এনেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে এই বন্দেমাতরম মন্ত্র জাতিকে উদবুদ্ধ করেছিল বলে জানান।

বিরোধীদের প্রতিবাদ : কংগ্রেসের পক্ষে বিতর্কের প্রথম বক্তা গৌরব গগই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যর তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, বন্দে মাতরম নিয়ে রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী। ওঁর অভ্যাসই হল যে কোন বিষয়ে কংগ্রেস ও প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গ টেনে আনা। ওঁরা ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে চায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। কংগ্রেসই বন্দে মাতরমকে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দিয়েছিল। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে বন্দেমাতরম গান গেয়েছিলেন।
১৯০৫ সালে বারানসির অধিবেশনে সরলা দেবী চৌধুরাণীও এই বন্দেমাতরম গানটি গান।
প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে গৌরব গগই বলেন, প্রধানমন্ত্রী যতই চেষ্টা করুন দেশে নেহরুজির অবদানে তিনি কোন দাগ লাগাতে পারবেন না। মুসলিম লিগ এই গানের বিরোধিতা করলেও কংগ্রেসের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন, এই গানে তাঁর কোন আপত্তি নেই। এখানেই কংগ্রেস ও জিন্নার সঙ্গে পার্থক্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাজবাদী সাংসদ অখিলেশ যাদব বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, ওঁরা কি আদৌ বন্দেমাতরম এর অর্থ জানেন!! এখন বিভাজনবাদী শক্তি বিভেদ সৃষ্টির জন্য একে ব্যবহার করছেন।ব্রিটিশ শাসনে ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এই গান লেখা হয়েছিল বলে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে জানান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*