রমিত সরকার, নদীয়া :
দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে নিজের বসতবাড়ি ফিরে পেল রানাঘাটের এক অসহায় পরিবার। অভিযোগ, ক্ষমতার দাপটে তৃণমূলের এক নেতা তাঁদের বাড়ি দখল করে সেখানে ক্লাব চালাতেন। বহুবার থানায় অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ হওয়া— সবকিছুর পরেও মেলেনি সমাধান। অবশেষে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক উদ্যোগে দখলমুক্ত হল সেই বাড়ি। সোমবার পুলিশ ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয় প্রকৃত মালিকের হাতে।
ঘটনাটি রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের রামনগর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। পরিবারের সদস্য বিশাখা দাস দেবনাথের অভিযোগ, প্রায় আট বছর আগে তাঁদের টিনের বসতবাড়ি ও সংলগ্ন জমি জোর করে দখল করে নেওয়া হয়। পরে সেখানে একটি রাজনৈতিক ক্লাব গড়ে তোলা হয়। সেই ক্লাবকে কেন্দ্র করে এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলত বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।

সোমবার দখলমুক্ত হওয়ার পর বাড়ির ভিতরে দেখা যায় মদের বোতল, গ্লাস-সহ নানা সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই জায়গায় রাতভর আড্ডা ও নানা বেআইনি কাজ চলত।

পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবিতে একাধিকবার রানাঘাট থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কার্যত কোনও ফল মেলেনি। এমনকি আদালতের নির্দেশ থাকার পরেও অভিযুক্তরা বাড়ি ছাড়েনি। উল্টে তাঁদের হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির চাপে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র থাকতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্যরা।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে সরকার পরিবর্তনের পর। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে সোমবার দখলমুক্ত করা হয় বাড়িটি। পুলিশ ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের উপস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীর হাত থেকেই বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয় মালিক পরিবারের হাতে।

এতদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরে আবেগে ভেঙে পড়েন বিশাখা দাস দেবনাথ। চোখের জলে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে রানাঘাট উত্তর পশ্চিমের বিধায়ক পার্থসারথী চ্যাটার্জীও বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন সেই দিকেই পদক্ষেপ করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চর্চা চলছে।
ছবি : কাজল বসাক

Be the first to comment