রমিত সরকার, নদীয়া:
আন্তর্জাতিক জীব বৈচিত্র্য দিবসকে সামনে রেখে নদী ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কৃষ্ণনগরে অভিনব উদ্যোগ নিল সমাজসেবী সংগঠন ‘সেফ জলঙ্গী’। রবিবার বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জলঙ্গী নদীর তীরে আয়োজিত হয় প্রতীকী নদী পরিষ্কার অভিযান। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবেশপ্রেমী যুবক-যুবতী, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

কৃষ্ণনগরের জলঙ্গী নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এদিন বিকেল থেকেই শুরু হয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। নদীর ধারে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক, থার্মোকল, পলিথিন, ফুলমালা ও বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। সংগঠনের সদস্যদের হাতে ছিল গ্লাভস, ঝুড়ি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন সরঞ্জাম। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করা হয়।
সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, জলঙ্গী নদী শুধুমাত্র একটি নদী নয়, এটি নদীয়া জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অবৈধ ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী দূষণের প্রভাব পড়ছে মাছ, জলজ প্রাণী ও আশপাশের পরিবেশের উপরও। সেই কারণেই জীব বৈচিত্র্য দিবসের আগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এই প্রতীকী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিন কর্মসূচিতে উপস্থিত পরিবেশপ্রেমীরা জানান, শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, সাধারণ মানুষকে এগিয়ে এসে নদী ও প্রকৃতি রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। নদীকে বাঁচাতে হলে প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, বর্জ্য যথাস্থানে ফেলা এবং নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মসূচি চলাকালীন নদীর পাড়ে উপস্থিত বহু মানুষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে নদী সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
জীব বৈচিত্র্য দিবসের প্রাক্কালে ‘সেফ জলঙ্গী’-র এই উদ্যোগ কার্যত পরিবেশ রক্ষার সামাজিক বার্তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।

Be the first to comment