রোজদিন ডেস্ক , কলকাতা:- কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-এর (ইউজিসি) নীতিকে সংবিধান-বিরোধী বলে উল্লেখ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার সংসদীয় অধিবেশনের জিরো আওয়ারে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বক্তৃতা করেন।
উপাচার্য নিয়োগের সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা খারিজ করার আবেদন জানিয়েছেন সাংসদ। মহুয়া লোকসভায় জানান, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পরিচালনার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে রাজ্য সরকার। এদিকে সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটিতে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি নেই।
২০১৮ সালের ইউজিসি রেগুলেশনের বদলে ২০২৫ সালের ইউজিসি রেগুলেশন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই খসড়াকে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় সরকার-নির্ভভর, সংবিধান বিরোধী এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতি বিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২০২৫ সালের ইউজিসি রেগুলেশন-এর খসড়া অনুযায়ী, প্রশাসন, জননীতি এবং পিএসইউ থেকে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করা হবে। এই খসড়ায় আচার্য বা ভিজিটরদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা উপাচার্য নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের অনুসন্ধান ও বাছাই করার কমিটি (সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটি) গঠন করতে পারেন।
২০১৮ সালের ইউজিসি নীতির আওতায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (এমই) এবং প্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর (এমটেক) ডিগ্রি অর্জনকারী ব্যক্তিরা কমপক্ষে ৫৫ শতাংশ পেলেই তাঁদের সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক বা সেই স্তরের সমতুল পদে নিয়োগ করা যেত। তাঁদের ইউজিসি’র ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট (এনইটি) পাশ করতে হত না। নয়া ইউজিসি নির্দেশিকায় এই সুবিধে সংশোধন করা হবে।
গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের নিয়ম বদল নিয়ে ইউজিসি’র খসড়া খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিয়েছে রাজ্যের ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি। এই রিপোর্টে ইউজিসি’র ১০টি বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ওই কমিটি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩ সদস্যের পরিবর্তে ৫ সদস্যের কমিটির সুপারিশ করা হয়েছে। তার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধিকে রাখতে হবে, জানানো হয়েছে রিপোর্টে। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।

Be the first to comment